নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ভূঁইয়ারহাট দক্ষিণ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৪টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বাজারের একটি অংশে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘনবসতিপূর্ণ দোকানগুলোর মধ্যে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। রাতের নিস্তব্ধ পরিবেশে আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের বড় একটি অংশ পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ছিল ফলের দোকান, মুদি দোকান, কোল্ড কর্নার, ওষুধের দোকান, হার্ডওয়্যার ও ভাঙারি ব্যবসা। আগুনে দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বাজার এলাকায় বৈদ্যুতিক তারের অব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান ছিল। তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| অগ্নিকাণ্ডের স্থান |
ভূঁইয়ারহাট দক্ষিণ বাজার, সুবর্ণচর, নোয়াখালী |
| সময় |
রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট |
| দোকান ক্ষতিগ্রস্ত |
২৪টি দোকান |
| ব্যবসার ধরন |
মুদি, ফল, ওষুধ, কোল্ড কর্নার, হার্ডওয়্যার, ভাঙারি |
| হতাহত |
কোনো হতাহতের ঘটনা নেই |
| সম্ভাব্য কারণ |
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট |
| আগুন নিয়ন্ত্রণ সময় |
প্রায় ২ ঘণ্টা |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে তাদের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।
এই অগ্নিকাণ্ডে পুরো বাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা এখন পুনর্গঠনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।