পাকিস্তানে রাজ কাপুর ও দীলিপ কুমারের পৈতৃক বাড়ি সংরক্ষণের কাজ শুরু

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশওয়ারের কিসসা খাওয়ানি বাজার—যেখানে এক সময় দীলিপ কুমার ও রাজ কাপুরের মতো উপমহাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতাদের শৈশব কেটেছে, সেই এলাকাতেই অবস্থিত তাঁদের পৈতৃক বাড়ি।

পাকিস্তান সরকার ২০১৪ সালে বাড়ি দুটিকে জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এবার শতবর্ষী এসব বাড়ি সংরক্ষণে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পুরোনো এ ভবনগুলোর সংস্কারকাজ।

১৯২২ সালে দেওয়ান বিশ্বেশ্বরনাথ কাপুর নির্মাণ করেছিলেন ঐতিহাসিক কাপুর হাভেলি। তাঁর ছেলে পৃথ্বীরাজ কাপুর ছিলেন কাপুর পরিবারের প্রথম সদস্য, যিনি পা রাখেন রূপালি পর্দায়। পৃথ্বীরাজের পুত্র রাজ কাপুরের জন্মও হয় এই হাভেলিতে। দেশভাগের পর কাপুর পরিবার ভারতে চলে যায়। জীবনের শেষ পর্যায়ে পৈতৃক ভিটেতে ফিরতে চাইলেও রাজ কাপুর তা আর পারেননি।

তবে রাজ কাপুরের সন্তান রণধীর কাপুর ও তাঁর ভাই ঋষি কাপুর ১৯৯০ সালে পেশওয়ারে কাপুর হাভেলিতে গিয়েছিলেন। সেখানকার স্মৃতি এখনো গেঁথে আছে তাঁদের হৃদয়ে। এক সাক্ষাৎকারে রণধীর কাপুর বলেন, ‘পূর্বপুরুষদের জন্মভূমিতে গিয়ে আমরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। ওই বাড়ির উঠোনের মাটি এনে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম আমাদের খামারবাড়িতে।’

ঋষি কাপুর বহুবার অনুরোধ করেছিলেন, কাপুর হাভেলি যেন সংরক্ষিত থাকে এবং সেটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। পাকিস্তান সরকার তাঁকে সে আশ্বাসও দিয়েছিল। এবার শুরু হওয়া সংস্কারকাজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই অংশ।

কাপুর হাভেলির কাছেই রয়েছে আরেকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা—দীলিপ কুমারের পৈতৃক বাড়ি। ১৯২২ সালে বাড়িটি তৈরি করেছিলেন তাঁর বাবা, একজন ফল ব্যবসায়ী। দীলিপ কুমারও জন্মেছিলেন ওই বাড়িতেই। পরবর্তীতে ব্যবসায় ক্ষতিতে পড়লে পরিবারটি মুম্বাইয়ে চলে যায়। ১৯৩০ সালে বাড়িটি মাত্র ৫ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেন দীলিপ কুমারের বাবা। এরপর দীর্ঘদিন তা ব্যক্তিমালিকানায় ছিল এবং একপর্যায়ে গুদাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। শেষমেশ সরকার বাড়িটি অধিগ্রহণ করে।

বর্তমানে দিলীপ কুমারের বাড়িটিও সংস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। দুটি বাড়ির সংস্কারকাজে মোট ৭ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ২ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগের পরিচালক ড. আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, বাড়িগুলোর মূল কাঠামো ও স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখেই সংস্কার করা হবে। তিনি বলেন, ‘মূল ডিজাইন যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বিশেষ যত্নে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এই উদ্যোগ শুধু স্থাপত্য সংরক্ষণই নয়, বরং উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাস ও দুই দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সেতুবন্ধ হিসেবেও কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

খবরওয়ালা/এসআই

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।