খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ মে ২০২৫
পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেছেন, “আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি, এতে গোটা দেশ খুশি।”
বুধবার (৭ মে) জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের দেশ নিরীহ মানুষ এবং বিধবা নারীদের হত্যাকারীদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শত্রু দেশগুলোর উচিত ভারতের এই পদক্ষেপকে একটি বার্তা হিসেবে দেখা—আমাদের প্রতিটি কোণে তথ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আমরা আরও শক্তি দিয়ে জবাব দেব।”
এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে চালানো সামরিক অভিযানে কোনো বেসামরিক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। “আমরা কেবল তাদেরকেই আঘাত করেছি যারা নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকনির্দেশনায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গোটা জাতিকে গর্বিত করেছে,” বলেন তিনি।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার দুই সপ্তাহ পর মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের অন্তত ৯টি স্থানে হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, মাত্র ২৫ মিনিটে তারা ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে এবং এতে পাকিস্তানে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হন।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, ওই হামলায় ২৬ জন নিহত ও অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। এতে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ভারতীয় পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যদিও ভারতীয় পক্ষ থেকে তিনটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠকে সেনাবাহিনীকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তানে ভারতের এই সামরিক অভিযান দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।