খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি সতর্কবার্তা জারি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন পারস্য উপসাগরে সাহস দেখাতে পারছে না এবং যুদ্ধের সমাপ্তির উপায় খুঁজছে। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি জানিয়েছেন, চলমান সামরিক অভিযানে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রায় এক দশক আগে তৈরি হয়েছিল, এবং আরও আধুনিক অস্ত্রাগার এখনো ব্যবহার করা হয়নি।
নাঈনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট’ লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩,৬০০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪।” তিনি আরও জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পুরনো হলেও, রমজানের যুদ্ধ পর্যন্ত তৈরি হওয়া উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এখনও মজুত রয়েছে।
আইআরজিসি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের কথাও তুলে ধরেছে। নাঈনি বলেন, “মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে ঢোকার সাহস পাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদি তারা দাবি করে যে আমাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে, তাহলে তাদেরকে সাহস করে তাদের যুদ্ধজাহাজ নিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী ও আইআরজিসি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওমান উপসাগরের শেষ প্রান্তে ৩০০–৪০০ মাইল দূরে সরে গেছে। নাঈনি বলেন, এসব জাহাজ উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং মেরামতের জন্য এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের রাডার, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ডিপো এবং যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
নাঈনি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়বে—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে শত্রুপক্ষই এখন বিভ্রান্ত ও হতাশার মধ্যে রয়েছে।”
আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন কার্যত তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছে এবং কীভাবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে যুদ্ধ শেষ করা যায় তা নিয়ে ভাবছে। নাঈনি বলেন, “ইরান আক্রমণকারীদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাবে এবং শত্রুপক্ষ যখন আমাদের সামরিক ও সামাজিক প্রতিরোধ ক্ষমতা মেনে নেবে, তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।”
| সামরিক উপাদান | পরিমাণ (প্রায়) | লক্ষ্যবস্তু |
|---|---|---|
| ক্ষেপণাস্ত্র | ৭০০ | যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল |
| ড্রোন হামলা | ৩,৬০০ | যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল |
| নৌবাহিনী অবস্থা | ৩০০–৪০০ মাইল দূরে সরে গেছে | ওমান উপসাগর |
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, আইআরজিসি যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং শত্রুপক্ষকে সরাসরি মোকাবেলায় সীমাবদ্ধ করেছে। যুদ্ধ এখনও চলমান থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার উপায় খুঁজছে এবং ইরানের সামরিক ও সামাজিক শক্তিকে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।
এভাবে, পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ ইরানের পক্ষে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সামরিক শক্তির প্রদর্শন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি মোকাবেলায় বাধা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।