খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সুন্দরবনে পাঁচটি কুমিরের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে তাদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব কুমিরের মধ্যে কোনোটি এক নদী থেকে আরেক নদীতে ঘুরেছে, আবার কোনোটি সুন্দরবনের খালেই চলাচল করেছে। তবে লবণাক্ততার কারণে স্যাটেলাইট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কুমিরগুলোর সঙ্গে বন বিভাগের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া পাঁচ কুমির প্রায় এক হাজার ৪৬ কিলোমিটার নৌপথ ঘুরেছে। শিকার খোঁজা, খাবার সংগ্রহ এবং ডিম পাড়ার জন্য কুমিরগুলো প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকায় ঘোরাঘুরি করে।
গত বছরের ১৩ মার্চ, সুন্দরবনে কুমিরের জীবনাচরণ, অধিক্ষেত্র, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা বোঝার উদ্দেশ্যে প্রথমবার দুটি কুমিরের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো হয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি কুমিরে স্যাটেলাইট বসিয়ে সুন্দরবনের খালে ছাড়া হয়। এর মধ্যে চারটি কুমির সুন্দরবনের ভেতরের খালেই চলাচল করেছে। বিশেষভাবে, ‘জোংড়া’ নামে একটি কুমির বাগেরহাট, বরিশাল ও পিরোজপুর ঘুরে আবার সুন্দরবনে ফিরে এসেছে।
গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে আইইউসিএনের বাংলাদেশ দল, সহযোগিতা করেছে জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। এই গবেষণা আইইউএসএনের ‘ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব সুন্দরবন ম্যানগ্রোভস অ্যান্ড দ্য মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়েছে।
গবেষণার সুবিধার জন্য পাঁচটি কুমিরকে আলাদা নাম দেয়া হয় – জুলিয়েট, মধু, পুটিয়া, জোংড়া ও হারবারিয়া। এর মধ্যে জুলিয়েট, মধু ও পুটিয়া নারী কুমির, আর হারবারিয়া ও জোংড়া পুরুষ কুমির। স্যাটেলাইট সচল থাকাকালে জুলিয়েট ১৪৫ কিমি, মধু ১৭০ কিমি, পুটিয়া ২০৪ কিমি, হারবারিয়া ৫১ কিমি এবং জোংড়া ৪৭৩ কিমি নৌপথে চলাচল করেছে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘কুমিরের জীবনাচরণ সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছি আমরা। জোংড়া নামে যে কুমিরটি দূরের এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছে, সেটি মূলত করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের। এর গণ্ডি ছিল স্বল্প। নদীতে ছেড়ে দেয়ার পরে এক বিশাল দুনিয়া সে পেয়েছে। সে কারণেই হয়তো যেদিক পথ পেয়েছে, খাবার দেখেছে ছুটেছে। অন্য কুমিরগুলো সুন্দরবনের মধ্যেই ছিল। আরও বিস্তারিত জানতে নতুন পরিকল্পনাও রয়েছে।’
খবরওয়ালা/শরিফ