খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিশন এখন পর্যন্ত সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ওই সময়ের সেনা আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের জন্য তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সভাপতি আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, ‘কমিশন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।’
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পর, অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় তদন্তের দাবি তোলার পর গত ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয় এবং ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
ফজলুর রহমান জানান, ‘এ পর্যন্ত ৩৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, দুজন মেজর জেনারেল, পাঁচজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, চারজন কর্নেল, চারজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, সাতজন মেজর, দুজন ক্যাপ্টেন, সাতজন বিডিআর সদস্য এবং তিনজন শহীদ পরিবারের সদস্য রয়েছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাক্ষ্যগ্রহণকারী অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তা অবসরে গেছেন, মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ছাড়া বাকি সবাই অবসরপ্রাপ্ত।’
কমিশন জানায়, তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইনভেস্টিগেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে কাজের নির্ভুলতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, এবং কর্তৃপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে কিছু মন্ত্রণালয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং কিছু বিদেশি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
এছাড়া, কমিশন বিদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান জানার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের অবস্থান জানতে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।
খবরওয়ালা/জেআর