পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
রংপুরের পীরগঞ্জে মৌসুম ছাড়াও বছরজুড়ে চলছে ভেজাল গুড় তৈরির কারবার। আখ মৌসুমের বাইরে চিনি, চিটা, নালি গুড়, সুজি, ময়দা, রং, এমনকি ক্ষতিকর রাসায়নিক হাইড্রোজ ও সোডা মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব গুড়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হওয়া এই গুড় মানবদেহে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের খালাশপীর এলাকার ঠাকুরদাস লক্ষ্মিপুর তেলিপাড়ায় মৃত নুরু মিয়ার ছেলে হাফিজার রহমানের কারখানায় আখ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে গুড়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের প্রতিটি সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিনভর চলে এই ভেজাল গুড় তৈরির কাজ। বাড়ির মূল ফটক বন্ধ রেখে লোকচক্ষুর আড়ালে গুড় তৈরি করা হয়। এ ছাড়াও চতরা ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোনাজ্জল হোসেনের কারখানাতেও একই ধরনের ভেজাল গুড় উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, ‘আমরা এই কারখানায় নালি গুড়, চিটা, চিনি, সুজি, ময়দা, রং মিশিয়ে গুড় তৈরি করি। নিজেরাও এই গুড় খাই না। শুধু বাইরের বাজারে পাইকারি দামে সরবরাহ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুড় তৈরির মৌসুমে কিছুদিন আখের রস দিয়ে গুড় তৈরি হলেও, বছরের বাকি সময় বিকল্প পদ্ধতিতেই চলে উৎপাদন। কেউ বাঁধা না দেওয়ায় এই কাজ নির্দ্বিধায় করা হয়।’
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, একাধিকবার প্রশাসনকে জানালেও কোনো ধরনের অভিযান চালানো হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা স্যানেটারি অফিসার মাসোহারা পান বলেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
কারখানাগুলোর পরিবেশ ভয়াবহ। খালি গায়ে শ্রমিকরা শরীরের ঘামে ভিজে থাকা হাতেই কাজ করছেন। মশা-মাছির উপদ্রব আর চারপাশে নোংরা আবর্জনা – সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এক অবস্থা বিরাজ করছে। গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণগুলো যেমন – চিনি, ময়দা, সুজি, রং, চিটা ও নালি গুড়–তা কোনোভাবেই খাদ্যমানের নয়।
কারখানার মালিকদের কেউ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। বরং প্রতিবেদককে দেখে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্যানেটারি পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এসব ভেজাল গুড় তৈরির কারখানা বন্ধ করতে হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো উচিত বলে তারা মনে করেন।
খবরওয়ালা/আরডি