খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নওরোজ উপলক্ষে ইরানি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে মস্কো তেহরানের পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ক্রেমলিনের শনিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অবস্থান বজায় রাখবে, বিশেষ করে বর্তমান কঠিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
ক্রেমলিনের তথ্যানুযায়ী, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ইরানি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি ইরানের জনগণের জন্য সাহস, দৃঢ়তা এবং স্থিতিশীলতার কামনা করেছেন। পুতিনের বক্তব্যে রাশিয়ার সমর্থন কেবল কূটনৈতিক নয়, তা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিতে ইরানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যও জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মস্কোর এই সমর্থনের মাত্রা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কিছু ইরানি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর মার্কিন-সমর্থিত শাহের পতনের সময় থেকে ইরান তেহরানের সংকট মোকাবেলায় রাশিয়ার কাছ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য পায়নি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের সময় ইরানকে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তেমন পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
রাশিয়া আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হত্যার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্রকে “নিষ্ঠুর” কাজ হিসেবে অভিহিত করেছে।
একই সঙ্গে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ওয়াশিংটনকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়া সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনকে না দেয়, তবে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ক্রেমলিন এ প্রতিবেদনকে ভুয়া হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে।
নিচে রাশিয়ার ইরানের প্রতি সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| রাশিয়ার অবস্থান | ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার |
| শুভেচ্ছা প্রাপক | আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান |
| উপলক্ষ | নওরোজ (ইরানি নববর্ষ) |
| পুতিনের বার্তা | সাহস, দৃঢ়তা, স্থিতিশীলতা কামনা |
| মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলায় সংকট বৃদ্ধি, জ্বালানি অস্থিরতা |
| বিতর্ক | রাশিয়ার সাহায্য পর্যাপ্ত কি না নিয়ে ইরানি মতবিরোধ |
| গোয়েন্দা বিষয় | ওয়াশিংটনকে প্রস্তাব, ক্রেমলিন প্রতিবেদন অস্বীকার |
| আন্তর্জাতিক প্রভাব | মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা; জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা |
সব মিলিয়ে, পুতিনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি কেবল কূটনৈতিকভাবে নয়, বরং অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ সমর্থনের প্রকৃত কার্যকারিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাস্তব প্রভাব কেমন হবে, তা ভবিষ্যৎ কালে আরও স্পষ্ট হবে।