খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
মাগুরা জেলায় জ্বালানি তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ লাইনের চিত্র এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে পারিবারিক ও কৃষিকাজের চাপ কমাতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সক্রিয়ভাবে জ্বালানি সংগ্রহে অংশ নিচ্ছেন, যা সমাজে একটি নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
মঙ্গলবার শহরের ভিটাসাইর এলাকার মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, কৃষক, যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। অনেকে আবার শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই লাইনে অবস্থান করছেন।
সদর উপজেলার কাটাখালি এলাকার রোকসানা বেগম কোলে সন্তান নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি জানান, তার স্বামী কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটে। তাই স্বামীর সময় বাঁচাতে এবং কাজের চাপ কমাতে তিনি নিজেই তেল নিতে এসেছেন।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কুলছুম বেগম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তার স্বামী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, যা কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে তিনিও এগিয়ে এসেছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভিটাসাইর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, নারীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মাগুরার জেলা প্রশাসক আব্দুল আল মাহমুদ বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ঘিরে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় কৃষক ও যানবাহন চালকদের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি পাম্পে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে।
জেলায় মোট পেট্রোল পাম্পের সংখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মোট পাম্প সংখ্যা | ১৪টি |
| প্রধান জ্বালানি | ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন |
| অধিক চাহিদার খাত | কৃষি সেচ কার্যক্রম |
| লাইনে অপেক্ষার সময় | কয়েক ঘণ্টা থেকে প্রায় পুরো দিন |
| নতুন অংশগ্রহণকারী | নারী সদস্যরা |
বিশেষ করে চলমান ধান আবাদ মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেলের প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক কৃষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেও তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলকে ধৈর্য ধারণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।