খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর আদাবর এলাকায় পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার সঙ্গে জড়িত ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সদস্যরা। অনেককে আটক করতে পারলেও এই গ্রুপের দলনেতা জনি ও রনিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ফলে আতঙ্ক কাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ ঘটনার পরপরই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঐ এলাকা থেকে ১০২ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে পাঁচ জন পুলিশকে কোপানোর সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশ হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বাকি ৯৭ জনকে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ডিএমপির আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গত সোমবার রাতের এ ঘটনার পর থেকে আদাবর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে ও পুলিশি গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন তারা।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা ৫১ মিনিটে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির টিনশেড গেটের সামনে ২০-২৫ জন সশস্ত্র কিশোর গ্যাং সদস্য এসে জড়ো হয়। এ সময় তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সদস্য জনি ও রনি। কিশোর গ্যাং সদস্যরা এক মিনিট পর বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাউকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর তারা তাকে না পেয়ে চলে যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া এ ঘটনাটি মূলত পুলিশ সদস্যদের কুপিয়ে আহত করার কিছুক্ষণ আগের। তারা এ সড়ক দিয়ে গণছিনতাই করতে করতে পুরো আদাবর এলাকায় মহড়া দেয়। ঐ সময় নির্মাণাধীন বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে চাঁদা দাবি করছিল। না দেওয়ায় জনি ও রনি বাড়ির কেয়ারটকারসহ যারা ছিল, তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুর-আদাবর ভয়ংকর কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য জনি ও রনি। তারা আদাবর-১০ এলাকায় বালুর মাঠে বসে পুরো আদাবর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশের ওপর হামলায় নাজির, ওসমান, দাঁতভাঙ্গা সুজন, কবজি কাটা হৃদয় ও গাঁজা ব্যবসায়ী রাজুসহ অনেকে সরাসরি জড়িত ছিল। ঘটনার পরপরই রাতেই আদাবর এলাকায় এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে শুরু হয় যৌথ অভিযান। তবে কবজি কাটা গ্রুপের দলনেতারা অধরা রয়ে গেছে।
তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এ কে এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘আটক ১০২ জনের মধ্যে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের পুলিশ হত্যা চেষ্টা ও পুলিশি কাজে বাধার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আর বাকি ৯৭ জনের বিরুদ্ধে এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বিভিন্ন ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
খবরওয়ালা/এমইউ