রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আওয়ামী লীগ নেতা নুর আলমকে (৫৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মে) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মাহিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পীরগাছা উপজেলার ১ নম্বর কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান নুর আলমকে আটক করা হয়। তিনি কল্যাণী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরে নুর আলমকে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলা হয়। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, নুর আলমের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। এসব মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় |
তথ্য |
| নাম |
নুর আলম |
| বয়স |
৫৬ বছর |
| রাজনৈতিক পরিচয় |
কল্যাণী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক |
| পূর্ব পদ |
অপসারিত চেয়ারম্যান, ১ নম্বর কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদ |
| স্থান |
মাহিগঞ্জ, রংপুর |
| সময় |
সোমবার, রাত পৌনে ১০টা |
| অভিযান |
সাঁড়াশি অভিযান |
| অভিযোগ |
হত্যা ও হত্যাচেষ্টার একাধিক মামলা |
| বর্তমান অবস্থা |
পুলিশ হেফাজতে |
| পরবর্তী পদক্ষেপ |
আদালতে সোপর্দ |
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।