কক্সবাজার শহরের স্টেডিয়াম এলাকার ব্যস্ত সড়কে পুলিশের পোশাক পরে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে আসল পুলিশ। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার দিবাগত রাত প্রায় বারোটার দিকে। কক্সবাজার শহরের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের পাশের সড়কে ওই ব্যক্তি পুলিশের ইউনিফর্ম পরে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছিলেন। তার হাতে ছিল হ্যান্ডকাফ এবং তিনি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন। বিশেষ করে পাশের ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আসা রোগী বহনকারী যানবাহনকে লক্ষ্য করে তিনি অর্থ আদায় করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত রোগী পরিবহনের যানবাহনের চাপ থাকে। এই সুযোগে তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে যানবাহন থামিয়ে হয়রানি ও অর্থ আদায় করতেন। তার আচরণ এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে সাধারণ মানুষ তাকে প্রকৃত পুলিশ সদস্য বলেই মনে করত।
পরে টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার পরিচয় ভুয়া বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ আল মামুন, বয়স আনুমানিক চল্লিশ বছর। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব ডিগলিয়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সম্পূর্ণ ইউনিফর্ম, একটি হ্যান্ডকাফ এবং নাম লেখা দুটি ব্যাজ উদ্ধার করে। ব্যাজ দুটিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তার প্রতারণার কৌশলকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
বিষয়
তথ্য
আটক ব্যক্তির নাম
মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ আল মামুন
বয়স
প্রায় ৪০ বছর
এলাকা
পূর্ব ডিগলিয়া, রাজাপালং, উখিয়া, কক্সবাজার
অভিযোগ
পুলিশের পোশাকে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি
উদ্ধার সামগ্রী
ইউনিফর্ম, হ্যান্ডকাফ, দুটি নামযুক্ত ব্যাজ
ঘটনার স্থান
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম এলাকা
সময়
শনিবার দিবাগত রাত
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তিনি কীভাবে ইউনিফর্ম ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করলেন এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের মতো আচরণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। তার চলাফেরা ও ভঙ্গিমা এতটাই পেশাদার ছিল যে অনেকেই তাকে প্রকৃত পুলিশ সদস্য ভেবে বিভ্রান্ত হতেন। ঘটনার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।