খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকায় একটি জুতা তৈরির কারখানায় পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চলে কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বান্দরবানের আলীকদম থানার মিয়াপাড়ার মো. ইলিয়াস (৪০) এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার খিদিরপাড়া এলাকার আরিফ আল খোকন (৪০)।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাওজোড় এলাকার ‘প্যাসিফিক ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে জুতা উৎপাদনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গত এক বছর ধরে কারখানাটি একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল। এই চুক্তির আওতায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট চীনা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ওপর ছিল।
সম্প্রতি কারখানার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা জটিলতার কারণে প্রায় আড়াইশ শ্রমিক সময়মতো বেতন-ভাতা না পেয়ে অসন্তোষে ভুগছিলেন। ঈদের আগে কয়েক দফা শ্রমিক বিক্ষোভও হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় গতকাল সকালে, যখন চীনা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন প্রতিনিধি কারখানা থেকে কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে শ্রমিকরা বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এর মধ্যেই মো. ইলিয়াস ও আরিফ আল খোকন একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা কোনো ধরনের বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। সন্দেহ তৈরি হলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই শুরু হয়।
পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করলে বাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকারযুক্ত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করা হয়, যা তদন্তের অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা শেখ পলাশ আহমেদ বাদী হয়ে বাসন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ, শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান দাবি করেছেন, চলমান শ্রমিক সংকটকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ কারখানাকে হয়রানির চেষ্টা করছে। তার দাবি অনুযায়ী, জব্দ করা গাড়িটি সংশ্লিষ্ট শিল্প পুলিশের একজন কর্মকর্তার ব্যবহৃত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন তার পরিচিত।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শিল্প পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, জব্দকৃত গাড়ির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার কোনো ধরনের যোগাযোগ বা পরিচয় নেই।
বাসন থানার পরিদর্শক মো. সেলিম জানান, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশের সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
| নাম | বয়স | ঠিকানা | অভিযোগ |
|---|---|---|---|
| মো. ইলিয়াস | ৪০ | আলীকদম, বান্দরবান | পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ ও উত্তেজনা সৃষ্টি |
| আরিফ আল খোকন | ৪০ | লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ | একই অভিযোগে গ্রেপ্তার |