খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সবুজায়নের আড়ালে বাণিজ্যিক ফুডকোর্ট বা খাবারের দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি একটি সংস্থার জমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ার এই ঘটনাটি প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মেগা প্রকল্প ‘পূর্বাচল নতুন শহর’-এর ১ নম্বর সেক্টর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, পূর্বাচলের নীলা মার্কেটের সন্নিকটে টঙ্গী খালের (লেক) উভয় তীরের জায়গাটি সবুজায়নের জন্য রাজউক ডিএনসিসিকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। জায়গাটি নীলা মার্কেট থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরে ইছাপুরা সেতুর পাশে অবস্থিত। সেতুর উত্তরে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট সড়ক) এবং দক্ষিণে ইছাপুরা বাজার। খালের দুই পাড়ের প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাজউক কর্তৃপক্ষ ডিএনসিসিকে কেবল গাছ লাগানো বা গ্রিন বেল্ট তৈরির উদ্দেশ্যে শর্তসাপেক্ষ ও সীমিত ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ডিএনসিসির তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ নিজ ক্ষমতাবলে সেখানে ‘ভিভিড কনস্ট্রাকশন’ নামক একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি ১৫টি ফুডকোর্ট বা খাবারের দোকান বসানোর অনুমোদন প্রদান করেন। রাজউক কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি অন্য সংস্থার জায়গায় দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের নেই।
ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর ভিভিড কনস্ট্রাকশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেভিয়ার এস বিশ্বাসকে দুই বছরের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়। ডিএনসিসি কর্মকর্তারা জানান, মূলত সাবেক প্রশাসকের একক ইচ্ছাতেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানান, সবুজায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহের যুক্তি দেখিয়ে অস্থায়ীভাবে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান চালুর চিন্তা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, রাজউকের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক স্পষ্ট করেছেন যে, বাণিজ্যিক কোনো কার্যক্রমের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানটি দোকান বসাতে চাইলে রাজউক তাতে বাধা প্রদান করে।
এক নজরে প্রকল্প ও বরাদ্দের তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
| সংশ্লিষ্ট এলাকা | পূর্বাচল ১ নম্বর সেক্টর, টঙ্গী খালের দুই পাড় |
| মূল জমির মালিক | রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) |
| ব্যবহারকারী সংস্থা | ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) |
| অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান | ভিভিড কনস্ট্রাকশন |
| বরাদ্দের উদ্দেশ্য | সবুজায়ন এবং ১৫টি ফুডকোর্ট স্থাপন |
| সময়কাল | ০২ বছর (বর্তমানে স্থগিত) |
| বর্তমান অবস্থা | কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত |
সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের এই প্রেক্ষাপটে এজাজ কিছু বিতর্কিত বরাদ্দ বাতিল বা স্থগিত করেন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ভিভিড কনস্ট্রাকশনকে দেওয়া এক চিঠিতে ফুডকোর্ট পরিচালনার কার্যক্রম ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’ করার কথা জানানো হয়। তবে লেক পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভিভিড কনস্ট্রাকশন দাবি করেছে যে, তারা ইতিমধ্যে সেখানে ১,৩০০টি গাছ রোপণ এবং ১৪টি সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সড়কবাতি স্থাপনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমান স্থগিতাদেশের ফলে তাদের বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা জামানত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই এলাকাটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এবং এটি এখনো ডিএনসিসির প্রশাসনিক আওতাভুক্ত হয়নি, যা পুরো বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।