খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২৫ কোটি বছর পর পৃথিবীর মানচিত্র কেমন হবে—এই প্রশ্নে সাম্প্রতিক গবেষণা একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। নতুন এক জলবায়ু ও ভূতাত্ত্বিক সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা গেছে, বর্তমানে বিচ্ছিন্ন মহাদেশগুলো ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে একটি বিশাল সুপারকন্টিনেন্টে পরিণত হবে। তবে এই পরিবর্তন স্তন্যপায়ী প্রাণী ও মানুষের জন্য চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকরা জানান, তীব্র তাপ এবং বিস্তীর্ণ খরা ভবিষ্যতে প্রাণিকুলের বসবাসের এলাকা সীমিত করে দেবে। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে খ্যাতিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক সাময়িকী প্রকৃতি-এ।
গবেষণার অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আটলান্টিক মহাসাগর সংকুচিত হয়ে বিলীন হবে। টেকটোনিক প্লেটের চলাচলে ইউরোপ ও আফ্রিকা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে। বর্তমানের ভূমধ্যসাগর সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যাবে। ফলে মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার ভূখণ্ড সরাসরি ফ্রান্সের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি অবিচ্ছিন্ন স্থলভাগ তৈরি করবে। সমুদ্রের অনুপস্থিতির কারণে ফ্রান্সের মতো দেশগুলো তাদের শীতল রাখার প্রাকৃতিক উৎস হারাবে, ফলে গ্রীষ্মকাল হবে দীর্ঘ ও অসহনীয়।
কম্পিউটার মডেল অনুযায়ী, সুপারকন্টিনেন্টের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে বছরের দীর্ঘ সময় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকবে। বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফার্নসওয়ার্থের মতে, এই বিশাল ভূখণ্ডের বড় অংশ এত গরম ও শুষ্ক হয়ে যাবে যে সেখানে স্তন্যপায়ী প্রাণীর বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হবে। মানুষের দেহে ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা করার প্রক্রিয়াও কার্যকর হবে না; ছায়ার নিচেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উপায় থাকবে না। ফলে অধিকাংশ প্রাণী বিলুপ্তির মুখে পড়বে।
সুপারকন্টিনেন্ট গঠনের সময় ভূত্বকে নতুন ফাটল ও দীর্ঘ আগ্নেয়গিরি শৃঙ্খল তৈরি হবে। এতে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হবে, যা গ্রিনহাউস প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সময়ে সূর্যের উজ্জ্বলতা বর্তমানের তুলনায় ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এই দ্বিমুখী প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাণীর অভিযোজনগত গতির চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
নিচের টেবিলে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো:
| বিষয় | সম্ভাব্য পরিবর্তন | প্রভাব |
|---|---|---|
| মহাদেশের বিন্যাস | একীভূত সুপারকন্টিনেন্ট | উপকূলীয় প্রভাব হ্রাস |
| আটলান্টিক মহাসাগর | সংকুচিত ও বিলীন | তাপমাত্রা বৃদ্ধি |
| ভূমধ্যসাগর | অদৃশ্য | ইউরোপ-আফ্রিকা সংযুক্তি |
| অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা | ৪০°সেলসিয়াসের উপরে | স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিলুপ্তির ঝুঁকি |
| সূর্যের উজ্জ্বলতা | ২.৫% বৃদ্ধি | অতিরিক্ত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন |
বিশাল মহাদেশের অভ্যন্তরীণ অংশ মরুভূমি ও তাপ বলয়ে রূপ নেবে, তবে সমুদ্রের ধারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং উচ্চ অক্ষাংশের কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে শীতল থাকবে। বর্তমানের উত্তর ফ্রান্স, ব্রিটেন ও পর্তুগালের কিছু অংশ এই শীতল বলয়ের কাছাকাছি অবস্থান করবে। তবে সমুদ্র থেকে দূরের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলো শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হবে, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বিরল হয়ে যাবে।
গবেষকরা স্বীকার করেছেন, ২৫ কোটি বছর পর নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। টেকটোনিক প্লেটের সামান্য নড়াচড়া বা ক্ষুদ্র পরিবর্তনও ভবিষ্যতের মানচিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। তবু এই গবেষণা দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ও ভূগঠনের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা প্রদান করছে।