খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিতর্কিত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় নোবেল, তাঁর মা এবং স্ত্রীসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই আদেশ প্রদান করেন।
মামলার নথি ও বাদীপক্ষের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আনাননিয়া শবনম রোজ নামক এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নোবেল। অভিযোগ রয়েছে যে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিভিন্ন অজুহাতে তিনি বাদীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই আর্থিক লেনদেনে নোবেলের নিকটজন ও সহযোগীরাও প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৩ আগস্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। পিবিআই-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত এই মামলায় যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন, তারা হলেন:
১. মাইনুল আহসান নোবেল (গায়ক)
২. নাজমা হোসেন (নোবেলের মা)
৩. ইসরাত জাহান প্রিয়া (নোবেলের স্ত্রী)
৪. মুনেম শাহ সৌমিক (সহকারী)
৫. মাসুদ রানা (পরিচিত ব্যক্তি)
নিচে মামলার উল্লেখযোগ্য তথ্যসমূহ একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযোগের ধরণ | প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভন ও অর্থ আত্মসাৎ |
| অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সময়কাল | ২৫ আগস্ট ২০২৩ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত |
| মোট আত্মসাৎকৃত অর্থ | ১৩,১৮,৫৪০ টাকা (প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার) |
| তদন্তকারী সংস্থা | পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) |
| আদালতের আদেশ | অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা |
মাইনুল আহসান নোবেলের ক্যারিয়ার শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২৫ সালের ১৯ মে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে ডেমরা থানার একটি মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ওই মামলার বাদীকে বিয়ে করার শর্তে এবং পরবর্তী সময়ে বিয়ের পাঁচ দিন পর ২৪ জুন তিনি জামিন পান। নতুন করে অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগ তাঁর আইনি সংকটকে আরও ঘনীভূত করল।
এই মামলার বিষয়ে নোবেলের পক্ষ থেকে ভিন্ন চিত্র উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর এক সহকারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ‘গুজব’। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, নোবেল বর্তমানে রিহার্সেলে ব্যস্ত আছেন এবং কথা বলতে হলে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।