খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গত জানুয়ারিতে দুটি গ্রামে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের প্রধান ‘গোল্ড তুষার’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল। গত রবিবার (৬ জুলাই) ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তুষার শেখকে আটক করা হয়।
তুষারের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতির ঘটনা, ছিনতাই ও চুরির সাতটি মামলা রয়েছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই ডাকাতি দুটি ঘটানোর জন্য তুষারের প্রতিবেশী এক ভাবি তাঁকে তথ্য দিয়েছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তুষার ও তার সহযোগীরা ওই দুই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটান।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৫ জানুয়ারি রাতে লোহাগড়া উপজেলার ঘাঘা গ্রামের শেফালি বেগমের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে। এর চার দিন পর, ২৯ জানুয়ারি, নোয়াগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল হোসেনের বাড়িতেও ডাকাতি চালানো হয়। ওই বাড়ি থেকেও স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও টাকা লুট করে ডাকাতরা।
ডাকাতি হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো লোহাগড়া থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে। তবে মামলার আসামিরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা ১৮ মার্চ মানববন্ধন করেন।
তুষার শেখকে গ্রেপ্তারের পর তাকে লোহাগড়া থানায় নিয়ে আসা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তুষার আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর নোয়াগ্রামের বাড়ি থেকে ডাকাতির স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তুষারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সূচনা করেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
ওসি জানান, তুষার নিজেকে সোনা ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ‘গোল্ড তুষার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তবে বাস্তবে তাঁর কোনো সোনা ব্যবসা ছিল না। তিনি ডাকাতি করা সোনা বিক্রির চেষ্টা করতেন।
তুষার ও তাঁর দলটি নড়াইল, বাগেরহাট, ফরিদপুর, খুলনা, গোপালগঞ্জ এবং যশোরে একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। লোহাগড়া থানায় দুটি মামলা দায়ের হওয়ার পর ওই একই এলাকায় এক নারী, যিনি ‘ভাবি’ হিসেবে পরিচিত, তার দেওয়া তথ্যেই এই ডাকাতি দুটি হয়েছিল। তাঁকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।
তুষার শেখকে গ্রেপ্তারের পর, দুই ভুক্তভোগী পরিবার তাঁকে থানায় গিয়ে শনাক্ত করেন। এ সময় তুষার স্বীকার করেন যে, তার প্রতিবেশী ভাবি ওই দুই বাড়ির তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এর পর তিনি তার দল নিয়ে ডাকাতি করেছিলেন।
খবরওয়ালা/আরডি