খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। সামরিক মানের জ্যামার ব্যবহার করে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যাহত করার এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে এটিকে ডিজিটাল স্বাধীনতার ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের স্পষ্ট উদাহরণ বলেও অভিহিত করছেন।
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ওয়েবসাইট ইরান ওয়্যার–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরে কয়েক হাজার স্টারলিংক রিসিভার ইউনিট সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক জ্যামিংয়ের ফলে সেগুলোর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রথম দিকে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ বিঘ্নিত হলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা ৮০ শতাংশের বেশি হয়ে দাঁড়ায়। অনেক এলাকায় ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছেন।
টাইমস অব ইসরাইলের তথ্যমতে, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে ইরান সরকার কখনোই এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে দেশটির আইনে স্টারলিংককে অবৈধ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রযুক্তিগতভাবে স্টারলিংক সিস্টেম স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস সিগন্যালের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়েছে ইরান। টাইমস অব ইসরাইল জানায়, গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই ইরান ধারাবাহিকভাবে জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করে আসছে। এর ফলে কোথাও আংশিক ইন্টারনেট সচল থাকলেও কোথাও প্রায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট তৈরি হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জ্যামিংয়ের ধরন | সামরিক জিপিএস ও স্যাটেলাইট জ্যামার |
| প্রাথমিক ট্র্যাফিক বিঘ্ন | প্রায় ৩০ শতাংশ |
| কয়েক ঘণ্টা পর বিঘ্ন | ৮০ শতাংশের বেশি |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | বড় শহর ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল |
| সরকারি অনুমোদন | ইরানে স্টারলিংক সম্পূর্ণ অবৈধ |
এদিকে দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে চার দিন ধরে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা দ্রুত পুনরায় চালু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি জানান, ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন।
উল্লেখ্য, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত চার দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। স্টারলিংক অচল করার সিদ্ধান্ত এই প্রেক্ষাপটেই ইরান সরকারের তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কৌশলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।