খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
এক সময় রূপালি পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছিলেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। বর্তমানে তিনি অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত হলেও তাঁর সাফল্য ও স্মরণীয় কাজ এখনও দর্শকের মনে উজ্জ্বল। সম্প্রতি এক আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি অতীতের একটি বিশেষ স্মৃতিচারণ করেন, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে তিনি একসময়ে একটি শুভেচ্ছাপত্র পেয়েছিলেন।
পূর্ণিমার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গ্যারিসন প্রেক্ষাগৃহে সপরিবারে ‘মনের মাঝে তুমি’ চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেন তারেক রহমান। চলচ্চিত্রটি দেখে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হন। অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়, কাহিনির আবেগঘন উপস্থাপন এবং নির্মাণশৈলী তাঁকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে, তিনি চলচ্চিত্রটির সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে একটি অভিনন্দনপত্র প্রেরণ করেন।
পূর্ণিমা জানান, সেই চিঠিতে ‘মনের মাঝে তুমি’ চলচ্চিত্রের প্রধান অভিনয়শিল্পীদের নাম উল্লেখ করে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়েছিল। এতে তিনি লিখেছিলেন যে, এ ধরনের মানসম্মত চলচ্চিত্র নিয়মিতভাবে নির্মিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্রশিল্প যেন তার গৌরবময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে—সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছিলেন। এই সৌজন্যমূলক উদ্যোগ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সবার কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল বলে মন্তব্য করেন পূর্ণিমা।
তিনি আরও বলেন, “সেই সময় বর্তমানের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। ফলে চিঠিটি আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত মূল্যবান স্মারক। আমার মা পরিচিত সাংবাদিকদের কাছে চিঠিটি দেখিয়েছিলেন, যা আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছিল।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, একজন রাষ্ট্রনায়কের আন্তরিক প্রশংসা শিল্পীদের কর্মপ্রেরণা কতটা বাড়িয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ‘মনের মাঝে তুমি’ চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়। এই চলচ্চিত্র পূর্ণিমার অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল এবং তাঁকে শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
সম্প্রতি দেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি আজ শনিবার, ১১ এপ্রিল, রাত ৯টায় মাছরাঙা দূরদর্শনে প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে পূর্ণিমা তাঁর অভিনয়জীবন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের নানা অজানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| চিত্রনায়িকা | পূর্ণিমা |
| প্রাপ্ত সম্মাননা | প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাপত্র |
| চিঠি প্রাপ্তির বছর | ২০০৩ |
| সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্র | মনের মাঝে তুমি |
| প্রদর্শনের স্থান | ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গ্যারিসন প্রেক্ষাগৃহ |
| চিঠির মূল বক্তব্য | মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রশংসা ও উৎসাহ |
| স্মৃতিচারণের মাধ্যম | আলোচনামূলক অনুষ্ঠান |
| প্রচারের সময় | ১১ এপ্রিল, রাত ৯টা |
| প্রচারমাধ্যম | মাছরাঙা দূরদর্শন |
এই স্মৃতিচারণ কেবল ব্যক্তিগত গৌরবের বিষয় নয়; বরং এটি দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হয়।