খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার যমুনা এলাকায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনের আশেপাশে শুক্রবার ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই নির্দেশ প্রধানত শান্তি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে।
এ দিনের ঘটনা সকালে শুরু হয়, যখন ৯ম পে-স্কেলের সরকারি কর্মকর্তারা গেজেট প্রকাশ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর মিছিলের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হন।
বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করে। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। প্রথম দফার ধাক্কাধাক্কির পর মিছিল ছত্রভঙ্গ হলেও কিছু সময় পর আবারও আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এই ধারা অনুযায়ী, অশান্তিকর সমাবেশ, জনসমাগম ও অশান্তিপূর্ণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।
নিচের টেবিলে ১৪৪ ধারার প্রয়োগ ও আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| সময় | ঘটনা | পুলিশের পদক্ষেপ | পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| সকাল ১০টা | কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি কর্মকর্তাদের সমাবেশ | — | শান্তিপূর্ণ |
| ১১টা | মিছিল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশে পৌঁছায় | ব্যারিকেড স্থাপন | ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ |
| ১১.৩০টা | প্রথম দফার সংঘর্ষ ও মিছিল ছত্রভঙ্গ | টিয়ার গ্যাস, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড | উত্তপ্ত, মিছিল ছত্রভঙ্গ |
| ১২টা | আন্দোলনকারীরা পুনরায় যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হয় | পুনরায় টিয়ার গ্যাস, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড | সংঘর্ষ চলতে থাকে |
| ১২.৩০টা | কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন | ১৪৪ ধারা জারি | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে |
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের তৎপরতার কারণে বৃহত্তর অশান্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রধান উপদেষ্টার আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাংবাদিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের এই ধরনের সমাবেশ ও মিছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে সামাজিক শান্তি রক্ষার জন্য পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।