খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চারআনিপাড়া মহল্লার ৩৫ বছর বয়সী মো. মোস্তফা মিয়া দীর্ঘদিন এলাকায় সামিলের কাজ করতেন। মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করলেও তিনি বিদেশে কাজের সুযোগের লোভে পড়েন।
প্রবাস যাওয়ার জন্য দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে মোস্তফা তার সর্বস্ব বিক্রি করে ৬ লাখ টাকা দেন। পাসপোর্ট ও ভিসার সব প্রস্তুতি শেষে তিনি সৌদি আরব যান। তবে সেখানে কথামতো কাজ ও আকামা না থাকায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় খাদ্যাভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিচিত কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে উদ্ধার করে কিংস ফাহাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মোস্তফার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর পরিবার জানায়, দেশে মরদেহ পাঠাতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হবে এবং কবে আসবে তা জানা নেই। এতে প্রবাস পাঠানোর জন্য নেওয়া ঋণসহ মোট প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচের বোঝা পরিবারের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।
মোস্তফাকে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় দালালরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, লাল মিয়া ও এখলাছ উদ্দিন নামের দালালদের মাধ্যমে স্বামীর কাছে বিদেশে সৌর বিদ্যুতের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বেতন হবে কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু চার মাসেও কাজ দেওয়া হয়নি এবং দালালদের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ। মোস্তফা গুরুতর অসুস্থ হলে পরিবার দেশে থেকে আরও আড়াই লাখ টাকা পাঠায়।
নাছিমা বেগম শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “স্বপ্ন ছিল স্বামী বেঁচে থাকলে ঋণ পরিশোধ করতে পারতাম। এখন সব শেষ, মরদেহ আনতেও আরও ৪ লাখ টাকা লাগবে। এটি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।”
মোস্তফার মায়া রোকিয়া বেগম শয্যাশায়ী হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার মোস্তুরে আমার বুকে আইন্যা দেও, না হলে আমারকেও হেইনো পাডাইয়া দেও।’
খবরওয়ালা/এমএজেড