খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন একদল পরীক্ষার্থী। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন, ফলে দীর্ঘ সময় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, উপজেলার গৃধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ জন পরীক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র হাতে পাননি। পরীক্ষার আগের দিন সকাল থেকে বিদ্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তারা প্রবেশপত্র না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রবেশপত্র চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন এবং সঠিকভাবে কোনো সমাধান দেননি।
এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সোমবার (পরীক্ষার আগের দিন) রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা বিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবরোধের কারণে জরুরি যানবাহনসহ শত শত গাড়ি আটকে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত প্রবেশপত্র সরবরাহের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরীক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা |
| বিদ্যালয় | গৃধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয় |
| পরীক্ষার্থী সংখ্যা | প্রায় ৪০ জন |
| ঘটনাস্থল | ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক |
| অবরোধের সময় | রাত সাড়ে ৮টা থেকে |
| কারণ | প্রবেশপত্র না পাওয়া |
| প্রশাসনের ভূমিকা | ইউএনও’র আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার |
| ফলাফল | যান চলাচল স্বাভাবিক |
পরীক্ষার্থীদের দাবি, তারা সময়মতো প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান। তাদের মতে, স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। অনেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা সামনে রেখে তারা মানসিক চাপে ছিলেন, তার ওপর প্রবেশপত্র না পাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
অভিভাবকরাও বিষয়টিকে অত্যন্ত দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং যেসব কারণে প্রবেশপত্র বিতরণে দেরি হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে এমন ঘটনা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রশাসন—সব পক্ষকেই চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। যদিও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবুও এ ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।