খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর অন্যায় আবদার বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের অভয় প্রদান করেন। তিনি থানা পুলিশ (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অনৈতিক কোনো তদবির বা অন্যায় সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে তাকে যেন কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া না হয়। মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, অপরাধী যেই হোক— এমনকি তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ কেউ হলেও— আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকার সুযোগ পাবেন না।
মন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন যে, যদি কেউ তার নাম ভাঙিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি বলেন, “কেউ যদি আমার নাম ব্যবহার করে কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করে, তবে আপনারা সরাসরি আমাকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেন।”
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। বিশেষ করে সাটুরিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি জানান, সাটুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘বালিয়াটি জমিদার বাড়ি’-কে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রের আওতায় এনে এর ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
সভার মূল আলোচ্য বিষয় ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ
| ক্রমিক | আলোচনার মূল ক্ষেত্র | গৃহীত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা |
| ১ | প্রশাসনিক শৃঙ্খলা | অন্যায় আবদার ও রাজনৈতিক তদবির কঠোরভাবে দমন করা। |
| ২ | আইন-শৃঙ্খলা | থানায় অযথা নেতাকর্মীদের অবস্থান ও সালিশি বিচার বন্ধ করা। |
| ৩ | পর্যটন উন্নয়ন | বালিয়াটি জমিদার বাড়িকে পর্যটন খাতের আওতায় এনে আধুনিকায়ন। |
| ৪ | স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ | মন্ত্রীর নাম ব্যবহারে বিশেষ সুবিধা চাইলে সরাসরি যাচাই করা। |
| ৫ | জনসেবা | দুস্থদের সহায়তা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা। |
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মন্ত্রী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি তাদের সরকারি দপ্তর বা থানায় অযথা ভিড় করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে ‘সালিশ-বিচারের’ নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য তিনি কড়া বার্তা দেন।
সভার শেষে মন্ত্রী দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ নেন। একই সঙ্গে তিনি উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেন। দিনের কর্মসূচি শেষে তিনি উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রীর এই কঠোর ও জনমুখী অবস্থান স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।