খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার অপ্রাণী বীমা খাত বর্তমানে এক জটিল পরিবেশের মুখোমুখি। বন্যা, বনজ আগুন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দাবির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বীমা কোম্পানিগুলো তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকরী কৌশল পুনঃমূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে, কঠোর মূলধন পর্যাপ্ততার শর্তাবলী কোম্পানিগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল লাভের জন্য কৌশলগত পরিবর্তন অপরিহার্য করে তুলেছে।
দুর্যোগজনিত দায়ের বৃদ্ধি প্রিমিয়ামে ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বীমা কভারেজের ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বীমা সংস্থাগুলিকে নতুন মূলধন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল সাজাতে হবে, যা স্থিতিশীল লাভ নিশ্চিত করবে। ফিচ রেটিংসের তথ্য অনুযায়ী, যদিও প্রতিযোগিতা সামান্য নরম হতে পারে, তবু আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মূল পার্থক্য হিসেবে থাকবে।
উচ্চ দাবিসম্পন্ন ক্ষেত্রে যেমন ক্রেডিট ও স্বাস্থ্য বীমায় কঠোর আন্ডাররাইটিং চালু হবে, যা রাজস্ব স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তদুপরি, স্থির-আয় বিনিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ সুদের রিটার্ন মোট খাতের আয়ে সমর্থন জোগাবে।
২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে প্রিমিয়ামের বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গাড়ি বীমা খাতে বর্ধন ধীর হওয়ার পেছনে মূলত গাড়ি বিক্রির স্থবিরতা দায়ী, যা সম্পত্তি, ক্রেডিট এবং স্বাস্থ্য বীমার বৃদ্ধির মাধ্যমে আংশিকভাবে পূরণ হবে।
| বীমা খাত | মোট প্রিমিয়ামে অংশ (%) | ২০২৬ সালে প্রত্যাশিত বৃদ্ধি |
|---|---|---|
| গাড়ি | প্রায় ৫০ | সীমিত / ধীর |
| সম্পত্তি | প্রায় ২৫ | মাঝারি |
| স্বাস্থ্য | প্রায় ১৫ | মাঝারি |
| ক্রেডিট | প্রায় ১০ | মাঝারি |
গ্লোবালডেটার বিশ্লেষক স্বরূপ কুমার সাহু উল্লেখ করেছেন, “দুর্যোগের ঝুঁকি বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি, নীতি সংস্কার এবং নতুন দুর্যোগ সম্পর্কিত পণ্যের প্রবর্তন অপ্রাণী বীমার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।” ২০২৬ সালে বন্যা বা ভূমিকম্পের পর স্বয়ংক্রিয় কভারেজ প্রদানের উদ্যোগ সরকারী সম্পদ রক্ষা করবে এবং ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতেও এটি প্রসারিত হতে পারে।
তবুও, দুর্যোগ বীমার গ্রহণযোগ্যতা এখনও অত্যন্ত কম। বর্তমানে ০.১% এরও কম পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বীমা গ্রহণ করেছে, আর সম্পত্তি বীমা মাত্র প্রায় ০.১৩%, যার ফলে ৮০% এরও বেশি বড় বন্যার ক্ষতি বীমাহীন থেকে যায়। সরকারী পুনর্বীমা উদ্যোগের ফলে সম্পত্তি বীমার প্রবেশাধিকার কিছুটা উন্নত হয়েছে, কিন্তু মূল্য নির্ধারণ, কভারেজ সম্প্রসারণ এবং লাভজনকতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পণ্য উদ্ভাবন, কার্যকর বিতরণ ব্যবস্থা এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জন ইন্দোনেশিয়ার বীমা ঘাটতি পূরণের মূল চাবিকাঠি। আগামী দিনগুলিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো: বীমা কোম্পানিগুলো কীভাবে অপ্রাণী ও সম্পত্তি বীমা সম্প্রসারণ করতে পারবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যেও লাভজনকতা বজায় রাখতে পারবে?