খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ফরহাদ মজহারের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এই সভার এখতিয়ার নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং) কাজী মো. আবু কাইয়ুম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফরহাদ মজহারকে নিয়ে কটূক্তি করে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “ড. ইউনুস সরকারের নতুন ‘উপদেষ্টা’ জনাব ফরহাদ মাজহার। বউ কোটায় উনার উপদেষ্টা হয়ে ওঠার চেষ্টা।” একই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফরহাদ মজহার মাউশির শীর্ষ কর্মকর্তাদের “বাধ্য করেই কাজের ব্যপারে জবাবদিহিতা ও নির্দেশনা মূলক মিটিং” করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মাউশির কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয় এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সভা। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ফরহাদ মজহার মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খানের কক্ষে যান। সেখানে তিনি শিক্ষা ও রাষ্ট্র নিয়ে নিজের দর্শন এবং মাউশির কার্যক্রম সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর সম্মানে মহাপরিচালক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সভায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। স্থান সংকুলান না হওয়ায় আলোচনা কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শুরুতে ফরহাদ মজহার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাউশির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে শোনেন। এরপর তিনি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তাঁর শিক্ষা ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় নিপীড়িত শ্রেণির মানুষ উপেক্ষিত হচ্ছে এবং শিক্ষাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যা শোষিত জনগণের পক্ষে অবস্থান করবে।
সভা চলাকালীন কিছুক্ষণ পরেই কক্ষ ত্যাগ করেন পরিচালক কাজী মো. আবু কাইয়ুম। পরে তিনি অভিযোগ করেন, ফরহাদ মজহার কোনো সরকারি পদে না থেকেও কর্মকর্তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিয়েছেন। পাশাপাশি দাবি করেন, মহাপরিচালকের পাশের চেয়ারে বসানো হয়েছিল তাঁকে, যা তিনি ‘উপদেষ্টার চেয়ার” বলে অভিহিত করেন। এছাড়াও হঠাৎ মৌখিক নির্দেশে আগের দিন বিকেলে সভার নোটিশ দেওয়া হয় এবং সকালে সবাইকে ফোন করে উপস্থিত থাকতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেকটি প্রশ্ন ওঠে, সভায় কিভাবে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ইলিয়াস উপস্থিত ছিলেন, যদিও মাউশির সঙ্গে তাঁর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই।
তবে মাউশির একাধিক পরিচালক ও কর্মকর্তা জানান, কাউকে জোর করে সভায় আনা হয়নি। ইচ্ছুক কর্মকর্তারাই এসেছিলেন। মহাপরিচালকের পাশের চেয়ার কোনো উপদেষ্টার চেয়ার নয়, বরং অতিথি চেয়ার। তারা বলেন, শেখ হাসিনার আমলে দপ্তরে বঙ্গবন্ধু চেয়ার যেমন বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হতো, এটিও তেমনই একটি চেয়ার—যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী জানান, ফরহাদ মজহার কোনো কর্মকর্তা থেকে ব্যক্তিগত কাজের জবাবদিহিতা চাননি, শুধু মাউশির প্রকল্প ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। একইভাবে এইচআরএম শাখার উপ-পরিচালক মো. শওকত হোসেন মোল্যা বলেন, “এটি বাধ্যতামূলক কোনো সভা ছিল না। একজন রাষ্ট্রচিন্তকের আগ্রহে আমরা তাঁর শিক্ষা ভাবনা শুনেছি।”
পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রফেসর মো. সাঈদুর রহমান বলেন, ‘এটি শুধু একজন গুণী মানুষের সম্মানে আয়োজিত আলোচনা ছিল। এখানে কেউ বাধ্যতামূলকভাবে আসেনি। আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়েছি এবং আলোচনা প্রাণবন্ত ছিল।’
ফরহাদ মজহারের এই মতবিনিময় সভা নিয়ে একদিকে যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে, অন্যদিকে অনেক কর্মকর্তা একে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দিয়েছে এই আলোচনা। তবে অনানুষ্ঠানিক এই সভার যথার্থতা ও এখতিয়ার নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।
খবরওয়ালা/এমএজেড