খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
দুই দিনের মধ্যে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে এবারের নারী ফুটবল লিগ। দলবদলের শেষ দিন শুক্রবার, এবং সেই দিন সবচেয়ে বড় বাজিমাত করেছে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। পুরোনো এই ক্লাবটি এবার তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতীয় দলের পাঁচ তারকা ফুটবলার—তহুরা খাতুন, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। এছাড়া দলটি দুজন বিদেশি খেলোয়াড়কেও নিবন্ধন করেছে।
ফরাশগঞ্জের ম্যানেজার বাবুরাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় দলের ফরওয়ার্ড তহুরা খাতুন জানিয়েছেন, এবার তাদের খেলা দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা ফরাশগঞ্জ ক্লাবে সরাসরি মাঠে আসতে পারবেন। ক্লাবটি অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়কেও দলে নিয়েছে।
চমক হিসেবে নেপালের জাতীয় নারী দলের দুই ফুটবলার—ডিফেন্ডার পূজা রানা এবং মিডফিল্ডার সবিতা রানা মাগার—ফরাশগঞ্জের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। গোলকিপার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফুটসাল দলের সেজুতি।
ফরাশগঞ্জের কোচিং উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল আহমেদ বাবু, এবং হেড কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন আবু ফয়সাল। ইতিমধ্যেই ক্লাবটি ৩৫ জনের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড গঠন করেছে। ম্যানেজার বাবুরাম বলেন, “আমরা আমাদের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট। আশা করি এই দল নিয়ে মাঠে ফাইট দিতে পারব এবং ফাইনালে জায়গা করে নেব।”
রাজশাহী স্টার্সও দলে শক্তিশালী ফুটবলারের সংযোজন করেছে। তাদের দলে আছেন আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণা চাকমা এবং শিউলি আজিম। পুলিশ ক্লাবে খেলছেন অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের তারকা মোসাম্মৎ সাগরিকা। তার সঙ্গে আছেন সতীর্থ কিসকু, সুরমা জান্নাত ও আইরিন আক্তার।
এবারের নারী ফুটবল লিগে মোট ১১টি দল অংশ নিচ্ছে। লিগের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে।
এবারের লিগের পটভূমি এবং লক্ষ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শেষবারের লিগ | ২০২৪ সালের মাঝামাঝি |
| শেষ চ্যাম্পিয়ন | নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি |
| এবারের দল সংখ্যা | ১১ |
| গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি খেলোয়াড় | নেপাল জাতীয় দলের পূজা রানা ও সবিতা রানা |
| বিশেষ লক্ষ্য | মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ, এপ্রিল-এ থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ |
| ম্যাচের স্থান | বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, কমলাপুর |
মহারণের আগে নারীদের এই লিগকে ফুটবল সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, জাতীয় দল আগামী বছর এশিয়ান কাপ এবং অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির জন্য নতুন প্রতিভা যাচাই করবে।