খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই মামলায় মোট ২২৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৮৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে থানার ওসি জানান, এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বোয়ালমারী থানার ওসি মাহামুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “গতকাল শনিবার দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর ভিত্তিতে রাতেই বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতার অভিযান এখনও চলমান।”
মামলা দুটিতে সাবেক দুই সংসদ সদস্য এবং ফরিদপুর-১ আসনের দুই বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীকেও আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু।
একটি মামলার বাদী মজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সমর্থক। তার করা মামলায় ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০–২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে।
শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু অভিযোগ করেছেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ ৭ নভেম্বরের প্রোগ্রামে খন্দকার নাসিরের নির্দেশে দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এসময় আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যবহৃত ১৮–২০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবুও মামলা করা হয়েছে আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে।”
অপর মামলার বাদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। তার মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০–৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে এবং দুই নম্বরে সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফরকে। এছাড়া তিন নম্বরে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু, যিনি বর্তমানে পলাতক।
সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, “৭ নভেম্বর বিকালে আমাদের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু ঝুনু মিয়ার পক্ষ বিকেলে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলার পেছনে উসকানি দেন শাহ মো. আবু জাফর ও বাচ্চু।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ফরিদপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে প্রাথমিক তালিকায় তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গত এক বছর ধরে এই দুই গ্রুপের মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষটি ৭ নভেম্বর বিকালে উপজেলা সদরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে ঘটে। সংঘর্ষকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। হামলায় শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু সমর্থিত বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়, ১৫টি মোটরসাইকেল পুড়ে যায় এবং আশপাশের অন্তত ১০টি দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।