খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের লালনসংগীতের অমর প্রতিভা ফরিদা পারভীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একটি স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে লালনসঙ্গীত সংরক্ষণ ও প্রসারে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাঁর অসামান্য প্রতিভা দেশ-বিদেশে স্বীকৃত।
ফরিদা পারভীন তার সঙ্গীতধারার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে ‘অচিন পাখি সঙ্গীত একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তরুণরা লালনগানের সূক্ষ্ম দিকসমূহ শিখে থাকেন। এই একাডেমির মাধ্যমে পারভীনের সঙ্গীত ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,
“যেমন আমার গুরু তার শিষ্যদের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন, তেমন আমি চাই আমার সঙ্গীতশক্তি ‘অচিন পাখি একাডেমি’র শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুক।”
জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে। অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টায় শুরু হবে এবং এতে ফরিদা পারভীনের জীবন, শিল্পদর্শন, এবং সঙ্গীতসাফল্য নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া তাঁর শিষ্য ও সমকালীন সঙ্গীতশিল্পীদের পরিবেশনা থাকবে।
অতিথি সূচি
| পদ | অতিথি নাম |
|---|---|
| প্রধান অতিথি | ফরিদা আখতার, উপদেষ্টা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় |
| বিশেষ অতিথি | মাহবুবা ফারজানা, সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় |
| বিশেষ অতিথি | রেজাউদ্দিন স্টালিন, মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমি |
| উদ্বোধক | ড. মোহাম্মদ আবদুল মাজিদ, চেয়ারম্যান, সামাজিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন |
| চেয়ারপার্সন | গাজী আবদুল হাকিম, জীবনসঙ্গী ও প্রবীণ বাঁশি শিল্পী |
ফরিদা পারভীন ৩১ ডিসেম্বর ১৯৫৪ সালে নওগাঁ জেলার নাটোরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি মাগুরার কমল চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। চোদ্দ বছর বয়সে পেশাদার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন। তিনি নাজরুলগীতি, দেশাত্মবোধক গান এবং লোকসঙ্গীতে পারদর্শী হলেও, লালনগানে তাঁর অনন্য দক্ষতা তাঁকে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
প্রধান পুরস্কারসমূহ
| পুরস্কার | বছর |
|---|---|
| একুশে পদক | ১৯৮৭ |
| জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার | ১৯৯৩ |
| ফুকুয়োকা পুরস্কার, জাপান | ২০০৮ |
দীর্ঘকাল কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে লড়াই করার পর ফরিদা পারভীন ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অবদান—বিশেষত লালনসংগীত সংরক্ষণ ও প্রসারে—বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে অমোঘ ছাপ রেখে গেছে, যা চিরকাল মনে রাখা হবে এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।