খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ ২২ ফেব্রুয়ারি, শিশু সাহিত্য ও মিডিয়া জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, ফরিদুর রেজা সাগরের জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণকারী সাগর একজন প্রখ্যাত শিশু-কিশোর সাহিত্যিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর অর্জন তালিকায় রয়েছে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
সাগরের সাহিত্যজগতে পদচারণা শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সে। তিনি কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, চাঁদের হাট এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম দিনের শিশু-কিশোর অনুষ্ঠানে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তার পরবর্তীকালে লেখা শিশু সাহিত্য ও মিডিয়া কনটেন্টে গভীর প্রভাব ফেলে।
ফরিদুর রেজা সাগরের লেখালেখি প্রায় দেড় শতাধিক বইতে পরিণত হয়েছে। তিনি লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প, রহস্য উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, এবং স্মৃতিকথা। শিশু-কিশোর সাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন নতুন ধারার গল্প ও চরিত্রের মাধ্যমে। তার বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
| বইয়ের নাম | বিষয়বস্তু | প্রকাশকাল |
|---|---|---|
| বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর | বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইতিহাস ও শিশু অনুষ্ঠান | ২০০৭ |
| প্রিয়জন আপনজন | স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ, শতজনকে নিয়ে | ২০২৬ (প্রকাশিত হতে যাচ্ছে) |
| ছোটকাকু সিরিজ | শিশু-কিশোরদের জন্য কল্পকাহিনি ও শিক্ষামূলক গল্প | বিভিন্ন সময় |
তার বইগুলো কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং শিক্ষামূলক ও নৈতিক মর্মবোধও সমৃদ্ধ করেছে।
ফরিদুর রেজা সাগরের পরিবারও সৃষ্টিশীলতার একটি বড় কেন্দ্র। তাঁর মা রাবেয়া খাতুন একজন স্বীকৃত সাহিত্যিক, যিনি স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত। পিতা ফজলুল হক ছিলেন দেশের প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক ও প্রকাশক এবং প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর নির্মাতা।
ফরিদুর রেজা সাগর শুধু শিশু সাহিত্যেই নয়, চলচ্চিত্র, স্মৃতিকথা এবং মিডিয়া কর্মকাণ্ডেও সমান অবদান রেখেছেন। তার কর্মকাণ্ড শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও শিক্ষামূলক চেতনা বিকাশে অমুল্য ভূমিকা রেখেছে। নতুন প্রজন্মের লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য তিনি অনুপ্রেরণার প্রতীক।
আজকের দিনে তার জীবনী ও সৃষ্টিকর্ম স্মরণ করে আমরা সাগরের সাহিত্য ও মিডিয়া জগতে যে অবদান রেখেছেন তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।