খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট কর ফাঁকি উদঘাটন ও রাজস্ব পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই ইউনিট দেশের কর ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি আয়কর নথিতে কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এসব তদন্তে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত এসেছে।
চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৩২ কোটি টাকা ফাঁকিকৃত আয়কর আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু চলতি অর্থবছরেই পুনরুদ্ধারকৃত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। তদন্ত শেষে প্রমাণিত কর ফাঁকির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করদাতারা ধাপে ধাপে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কর ফাঁকি সংক্রান্ত এসব অর্থ বিভিন্ন করবর্ষে ব্যক্তি করদাতা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গোপন বা কম দেখানোর মাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের সুসংগঠিত অনুসন্ধানে এসব অনিয়ম উদঘাটিত হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদায় কার্যক্রম শুরু হয়।
এই উদ্যোগ দেশের কর সংস্কৃতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর ফাঁকি রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ইউনিটকে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তাদের দক্ষ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কর ফাঁকি শনাক্তকরণ ও আদায় কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। এতে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কর কমিশনার ড. লুৎফুন্নাহার বেগম জানিয়েছেন, কর ফাঁকি উদঘাটন ও রাজস্ব আদায়ে কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জোরদার করা হবে, যাতে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই ইউনিট আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| তদন্তাধীন নথির সংখ্যা | ৩,৩০০টির বেশি |
| উদঘাটিত কর ফাঁকির পরিমাণ | প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা |
| মোট আদায় (এপ্রিল পর্যন্ত) | ৫৩২ কোটি টাকা |
| চলতি অর্থবছরে আদায় | ৪১৪ কোটি টাকা |
| কার্যক্রম শুরুর সময় | ডিসেম্বর ২০২৪ |
সার্বিকভাবে, কর ফাঁকি উদঘাটন ও রাজস্ব পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।