খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন মামলা দায়ের করেছে। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সজীব আহমেদ বাদী হয়ে সোমবার, ২ মার্চ, ঢাকা-১ জেলার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক নজরুল ইসলাম এবং সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহসহ মোট ছয়জন ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মামলা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
অপর আসামিরা হলেন:
সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আবদুল আজিজ
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমির মোহাম্মদ ইব্রাহীম
সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং শাখা প্রধান শেখ আব্দুর রাজ্জাক
সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট ও কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট কামাল হোসেন হাওলাদার
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট সাব-কমিটির ২৬৪তম সভায় ঢাকার তোপখানা রোডে অবস্থিত ফারইস্ট টাওয়ার-২-এর সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল রেট্রোফিটিং কাজের জন্য ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে অগ্রিম অর্থ প্রদানের প্রস্তাব তোলা হয়েছিল।
তবে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সভার এজেন্ডা নোটিশে এ ধরনের অগ্রিম অর্থ প্রদানের কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে ভুয়া কার্যাদেশ, জাল বিল আবেদন ও ভাউচার তৈরি করে মোট ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। প্রকল্পের বিল, ভাউচার এবং কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া নথি ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
অংশবিশেষ অর্থ ফারইস্ট ইসলামী প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবেও স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে অর্থের উৎস লুকিয়ে তা বৈধ করার চেষ্টা করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিং করেছেন।
| আসামি | পদবী | আত্মসাতের পরিমাণ | অপরাধের ধরন |
|---|---|---|---|
| নজরুল ইসলাম | সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক | ১৩,৭১,৫১,০০০ | অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিং |
| হেমায়েত উল্লাহ | সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা | “ | “ |
| সৈয়দ আবদুল আজিজ | সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি | “ | “ |
| আমির মোহাম্মদ ইব্রাহীম | সাবেক প্রধান প্রকৌশলী | “ | “ |
| শেখ আব্দুর রাজ্জাক | সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট | “ | “ |
| কামাল হোসেন হাওলাদার | সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট ও কমপ্লায়েন্স | “ | “ |
মামলাটি দেশের বীমা ও আর্থিক খাতের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি দেখিয়েছে যে, ব্যাংক ও বীমা সংস্থাগুলোর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে হবে।