খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে মাঘ ১৪৩২ | ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইউরোপীয় ফুটবলের সাবেক শীর্ষ কর্তা ও ফিফার প্রাক্তন সহসভাপতি মিশেল প্লাতিনি ফের ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান ফিফা ক্রমেই এককেন্দ্রিক ও কম গণতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্লাতিনি বলেন, ইনফান্তিনো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন এবং ধনী ও ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকছেন।
প্লাতিনির ভাষায়, ইনফান্তিনো একজন দক্ষ “নাম্বার টু” ছিলেন, কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বে এসে সেই দক্ষতা টেকসই প্রমাণিত হয়নি। উয়েফায় মহাসচিব হিসেবে তাঁর কাজের প্রশংসা করলেও প্লাতিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর তাঁর চরিত্রগত দুর্বলতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক প্রভাবশালীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ফিফার নীতিনির্ধারণকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
করোনাভাইরাস মহামারির পর ফিফার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা আরও কঠোর হয়েছে বলেও মনে করেন প্লাতিনি। তাঁর মতে, জরুরি পরিস্থিতির অজুহাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনটির গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইনফান্তিনোর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক যোগাযোগ—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে বিশেষ ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের বিতর্কিত অধ্যায়ের পর ফিফার সভাপতির দায়িত্ব নেন ইনফান্তিনো। তখন সংস্কার ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্লাতিনির দাবি, বাস্তবে ফিফা আগের তুলনায় কম গণতান্ত্রিক হয়েছে। তিনি বলেন, ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও তিনি ফুটবলের মানুষ ছিলেন; তাঁর মূল সমস্যা ছিল ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা। বিপরীতে, বর্তমান প্রশাসনে ফুটবলের চেয়ে প্রশাসনিক ও কর্পোরেট মানসিকতা প্রাধান্য পাচ্ছে।
বর্তমান ফুটবল প্রশাসকদের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্লাতিনি। তাঁর মতে, অনেকেই কেবল একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন—ফুটবল বা অন্য কোনো খেলাধুলার প্রতি প্রকৃত অনুরাগ সেখানে মুখ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইনফান্তিনোর সমালোচক প্লাতিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্ল্যাটারের কাছ থেকে পাওয়া দুই মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর অঘোষিত অর্থ নিয়ে সুইস প্রসিকিউটরদের অবহিত করে ইনফান্তিনো তাঁর ফিফা সভাপতির পথকে জটিল করেছিলেন—এই ব্যক্তিগত বিরোধও সম্পর্ককে তিক্ত করেছে।
| বিষয় | সেপ ব্ল্যাটার যুগ | জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুগ |
|---|---|---|
| সিদ্ধান্ত গ্রহণ | তুলনামূলকভাবে বিকেন্দ্রীকৃত | বেশি কেন্দ্রীয়করণ |
| গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ | তুলনামূলক বেশি | কমে যাওয়ার অভিযোগ |
| রাজনৈতিক যোগাযোগ | সীমিত | আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা |
| সমালোচনার ধরন | দুর্নীতি ও ক্ষমতায় থাকা | স্বৈরতন্ত্র ও পক্ষপাতিত্ব |
প্লাতিনির এই বক্তব্য ফুটবল বিশ্বে নতুন করে শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে।