খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি তথা ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (উয়েফা) সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনি। গত সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্লাতিনির আইনজীবীদের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মিশেল প্লাতিনির অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো ২০১৫ সালের একটি ঘটনা। তার দাবি, সে সময় তাকে ফিফা সভাপতির নির্বাচনী দৌড় থেকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও পরিকল্পিতভাবে ছিটকে দেওয়ার জন্য একটি গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় এবং বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়। প্লাতিনির আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, এই সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাকে যেন ফিফার শীর্ষ পদ অর্থাৎ সভাপতি পদে পৌঁছাতে না দেওয়া হয়।
প্যারিসে দায়ের করা এই নতুন ফৌজদারি অভিযোগে বর্তমান ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসন এবং দেশটির বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্লাতিনির ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গেছে, এই ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি তারা ফিফার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি দেওয়ানি মামলা করারও চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে ২০২২ সালেও প্লাতিনি সুইস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনুরূপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি জটিলতা তৈরির অভিযোগ তুলেছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে, ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দীর্ঘ সময় ধরে উয়েফায় মিশেল প্লাতিনির অধীনে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এক সময় বিশ্ব ফুটবল মহলে প্লাতিনিকেই ফিফার পরবর্তী সভাপতি হিসেবে সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী মনে করা হতো। কিন্তু ২০১৫ সালে একটি বিতর্কিত আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসার পর তার সেই সম্ভাবনা স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হয়। ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটারের কাছ থেকে ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ গ্রহণের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েন প্লাতিনি। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২২ সালে এবং পরবর্তীতে আপিল আদালতেও তারা দুজনেই সমস্ত অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে অব্যাহতি পান।
বর্তমান মামলায় অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তি এবং তাদের অতীত পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম | ঘটনার সময়কালীন প্রাতিষ্ঠানিক পদবি | মামলার মূল অভিযোগ ও সম্পৃক্ততা |
| জিয়ান্নি ইনফান্তিনো | বর্তমান সভাপতি, ফিফা (তৎকালীন উয়েফা কর্মকর্তা) | প্লাতিনিকে ফিফা নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মূল ষড়যন্ত্র ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। |
| মাইকেল লাউবার | সুইজারল্যান্ডের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল | প্লাতিনির বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। |
| মার্কো ভিলিগার | ফিফার সাবেক আইনি প্রধান (লিগ্যাল হেড) | আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে প্লাতিনির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ। |
| অন্যান্য কর্মকর্তা | সুইজারল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ৩ কর্মকর্তা | সামগ্রিক আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও ষড়যন্ত্রে সহযোগিতার অভিযোগ। |
ফরাসি কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনির এই নতুন ও বিস্ফোরক আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বা এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। যেহেতু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আসর শুরু হতে যাচ্ছে, তাই এই সময়ে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর ফৌজদারি মামলা ফুটবল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে নতুন সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। প্যারিসের আদালতে দায়ের করা এই মামলার অগ্রগতির ওপরই এখন নির্ভর করছে বিশ্ব ফুটবলের তৎকালীন ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ আইনি পরিণতি।