খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে অভূতপূর্ব উত্থান দেখা গেছে, যা বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে নির্দেশ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা ফেব্রুয়ারিতে মোট ৩.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছে, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর তুলনায় ১৯.১৫% বৃদ্ধি নির্দেশ করে। সাম্প্রতিক বছরের ফেব্রুয়ারিতে এটি রেকর্ডকৃত উচ্চতম রেমিট্যান্সের মধ্যে অন্যতম, যা ধারাবাহিক উত্থানের প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “ঈদ ও রমজান আসন্ন হওয়ায় প্রবাসীরা বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা পরিবারের খরচ ও প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও অতিরিক্ত এই প্রবাহের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মার্কেট থেকে ডলার ক্রয় করছে। জুলাই ২০২৫ থেকে বর্তমান অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রয় করেছে।”
এক সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “গত ১৮ মাস ধরে ধারাবাহিক বৃদ্ধির মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে প্রবাসীরা নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করছেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলি রেমিট্যান্স ক্রয় করছে প্রতি ডলারে ১২২.৪০–১২২.৪৫ টাকা মূল্যে, যা সরকারি ও অনানুষ্ঠানিক (‘হুন্ডি’) হারের ব্যবধান কমিয়েছে। আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা সরকারি রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করেছে।”
জানুয়ারিতে ২০২৬ সালে রেমিট্যান্স ছিল ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫.৪১% বৃদ্ধি নির্দেশ করে। মাসিক সর্বোচ্চ রেকর্ড দেখা গেছে মার্চ ২০২৫-এ ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৩.২২ বিলিয়ন ডলারে, যা ঋতুভিত্তিক ও ধারাবাহিক প্রবাহের প্রমাণ।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই ২০২৫–ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মোট রেমিট্যান্স ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল, যা আগের বছরের একই সময়ে ১৮.৪৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২১.৪% বৃদ্ধি। বিশ্লেষকরা এই বৃদ্ধিকে ঋতুভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবণতা, ব্যাংকিং অবকাঠামোর উন্নতি এবং অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
| মাস – বছর | রেমিট্যান্স (USD বিলিয়ন) | বার্ষিক বৃদ্ধির হার (%) |
|---|---|---|
| জানুয়ারি ২০২৫ | ২.১৮ | – |
| ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ২.৫২ | – |
| মার্চ ২০২৫ | ৩.২৯ | – |
| ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩.২২ | – |
| জানুয়ারি ২০২৬ | ৩.১৭ | ৪৫.৪১ |
| ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩.০২ | ১৯.১৫ |
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে, বিশেষত প্রধান উৎসবের আগে, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। সরকারি চ্যানেলে বেড়ানো বিশ্বাস বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রবাসী রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশীয় বাজারে লিকুইডিটি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা শক্তিশালী করছে, যা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিকে সমর্থন দিচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।