দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমেছে, যা টানা দ্বিতীয়বারের জন্য মূল্যবান ধাতুটির মূল্য হ্রাসকে চিহ্নিত করছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (৯ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এবার ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে দুই লাখ চুরাশি হাজার নয়শো সাতচল্লিশ টাকা। এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (শুদ্ধ স্বর্ণ) মূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা বাজারে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব স্বর্ণের দামের ওঠা-নামার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশে বাজারে স্বর্ণের প্রতি ভরির মূল্য নিম্নরূপ নির্ধারিত হয়েছে—
| স্বর্ণের প্রকার | প্রতি ভরি দাম (টাকা) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,৬৪,৯৪৭ |
| ২১ ক্যারেট | ২,৫২,৮৭৬ |
| ১৮ ক্যারেট | ২,১৬,৭৭৫ |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৭৬,৯৪৩ |
গত দুই সপ্তাহে স্বর্ণের দাম টানা ছয়বার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হ্রাসের মাধ্যমে দাম সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ দফায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ১৪ দফায় কমানো হয়েছে। এই ওঠা-নামার ফলে সাধারণ ক্রেতা ও গহনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে দামের প্রতি বিশেষ মনোযোগ তৈরি হয়েছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাম নির্ধারণের সময় আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বাজারে মূল্যবান ধাতুর সরবরাহ-চাহিদার পরিবর্তন স্বর্ণের মূল্য ওঠানামায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই দামের পরিবর্তন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যারা বিনিয়োগ বা ব্যক্তিগত ব্যবহারার্থে স্বর্ণ সংগ্রহ করতে আগ্রহী, তাদের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ক্রয়-বিক্রয় করা উচিত। বাজারে স্বর্ণের দাম হ্রাস পাওয়ায় অল্পকালীন ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জন্য সুবিধা সৃষ্টি হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত এই পরিবর্তনকে ধাতু ব্যবসায়ীরা সর্তকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক হ্রাস সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাবধান থাকা জরুরি।