খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৩০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গত কয়েক মৌসুম ধরে ম্যানচেস্টার সিটিকে নিয়ে যে ধারণা তৈরি হয়েছে—‘তারা অপরাজেয়’—সেটি বিগত এক সপ্তাহে খানিকটা নড়বড়ে হয়। নিউক্যাসল ও লেভারকুসেনের কাছে পরপর দুটি হার তাদের সাম্প্রতিক ছন্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
কিন্তু শীর্ষ দলগুলোকে আলাদা করে তোলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। আজ লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩–২ গোলের জয় সেই মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।
ম্যাচের শুরুর নির্দেশনা ছিল খুব পরিষ্কার—সিটি চায় গতি, আগ্রাসন ও আগের দুটি ম্যাচের হতাশা ভুলে নতুনভাবে শুরু করতে। মাত্র ৫৯ সেকেন্ডেই ফোডেনের গোল এগারোজনের সেই সংকল্পেরই প্রতিফলন। এরপর যে আধিপত্য দেখা গেছে, তা সিটির স্বাভাবিক ছন্দই মনে করিয়েছে। ২৫ মিনিটে গাভার্দিওলের গোল তাদের এগিয়ে দেয় ২–০ ব্যবধানে।
হাফটাইমে অনেকেই মনে করছিলেন, এ ম্যাচের গল্প হয়তো একতরফাই হবে। কিন্তু লিডস দেখিয়েছে, তারা সংগ্রামী, তারা লড়তে জানে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কালভার্ট-লুইনের গোলে ম্যাচে ফেরে অতিথিরা। পুরো দলের প্রেসিং তীব্র হয়, সিটির লাইন–আপে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। ৬৮তম মিনিটে এনমেকার গোল লিডসকে সমতায় ফেরায় এবং ম্যাচে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
এ সময় সিটির খেলা ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। মধ্যমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারায়, ডিফেন্সে ভুল বাড়তে থাকে। অনেকেই ভাবছিলেন—গার্দিওলার দল আরও একবার হোঁচট খেতে চলেছে। কিন্তু যখন দলটি জেতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগায়, ফুটবল ইতিহাসে সে মুহূর্তগুলোই স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
৯১তম মিনিট—ফোডেন আবারও বুকের সামনে থেকে বল নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন। এই গোল শুধু জয়ের গোল নয়, সিটির চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। ম্যাচে ৩–২ ব্যবধান তৈরি করে দলকে পয়েন্ট হারানোর বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন তিনি।
এই জয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে আর্সেনাল এবং তৃতীয় স্থানে চেলসি। লিডসের অবস্থা পুরোপুরি বিপরীত—চার ম্যাচে চার হার, অবনমন অঞ্চলে ১৮তম।