খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: জুলাই গণঅভুত্থান নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এই প্রতিপাদ্যে বাংলা একাডেমি আয়োজন করে অমর একুশে বইমেলা-২০২৫। মাসজুড়ে চলা এ মেলা শেষ হয়েছে গত শুক্রবার। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
লেখক-প্রকাশকসহ খাতসংশ্লিষ্টরা মেলায় বিক্রি এতটা কমার পেছনে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন দাবিতে মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে সভা-সমাবেশ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন।
লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের বইমেলায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন তারা । বড়-ছোট সব ধরনের প্রকাশক এবার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন মেলা নিয়ে। খোদ মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমিসহ বড় প্রকাশকদের বিক্রিও নেমেছে প্রায় অর্ধেকে।
বাংলা একাডেমি সূত্র জানিয়েছে, সদ্য শেষ হওয়া বইমেলায় প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে ৬১ লাখ টাকার বই। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। সে হিসেবে এবার গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বই বিক্রি হয়েছে।
খোদ বাংলা একাডেমির বই বিক্রির এমন করুণ অবস্থা কেন জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সরকার আমিন বলেন, ‘এবার মেলায় বিক্রি কম হয়েছে এটা সত্য। এখন আমাদের বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে, কেন কম হয়েছে? এ নিয়ে আলোচনা করে কারণ বের করতে হবে।’
তবে ভিন্ন একটি কারণ বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়, বিপণন ও পুনর্মুদ্রণ বিভাগের পরিচালক ডা. কেএম মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমিতে গত ১৭ বছর অতিমাত্রায় দলীয় বই প্রকাশ হয়েছে। কোনো এক প্রতিষ্ঠান এসে ৫০ হাজার কপি বঙ্গবন্ধুর জীবনী বা অন্য দলীয় বই কিনে নিত। এটা এবার হয়নি। ফলে বিক্রি অনেকটা কমে গেছে। এটা অন্য প্রকাশনীর বেলায়ও হয়েছে। বাংলা একাডেমির মতো একটা প্রতিষ্ঠানকে এভাবে দলীয়ভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মনে করি।’
এবার দেশের বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বিক্রির অবস্থাও বেশ খারাপ।
প্রকাশকরা জানিয়েছেন, এবারের মতো অব্যবস্থাপনা এর আগে দেখা যায়নি। মেলায় বিশাল অংশজুড়ে খাবারের দোকান বরাদ্দ করে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। ফলে একে বইমেলার চেয়ে রেস্টুরেন্টের মেলা বললেই যথার্থ হয় বলে মন্তব্য লেখক-প্রকাশকদের।
সার্বিক বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রকাশকদের বক্তব্য সঠিক। এবার আমরা হকার ব্যবস্থাপনা করতে পারিনি। বারবার বলা সত্ত্বেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। আর খাবারের দোকান বেশি থাকলেও তাদের মেলা থেকে দূরে এক পাশে দেয়া হয়। এখন সবাই যদি বলে মেলায় খাবারের দোকান থাকবে না, তবে আমরাও রাখব না। কিন্তু সবাইকে এক হয়ে বলতে হবে।’
খবরওয়ালা/এমইউ