খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
বগুড়া প্রতিনিধি: মেলা নামটি শুনলেই মনে এক ধরনের অভূতপূর্ব আনন্দের উচ্ছ্বাস জেগে ওঠে। আর পোড়াদহ মেলাটি সেই আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের আরও একধাপ যেন বাড়িয়ে দেয়। বগুড়া জেলায় বা আশপাশের এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা পোড়াদহ মেলার নাম শোনেনি। প্রায় ৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে পুরোনো ঐতিহ্য নিয়ে সগৌরবে টিকে আছে উত্তরবঙ্গের রাজধানী খ্যাত বগুড়ার ‘পোড়াদহ মেলা।’
শত শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে গুড়া জেলা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে ইছামতী নদীর তীরে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ নামক স্থানে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বসেছে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। মেলার পরদিন বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হবে বউমেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশের গ্রামে বইছে উৎসবের আমেজ।
প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বুধবারে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। এটিকে মাছের মেলাও বলা হয়ে থাকে। বিশাল আকৃতির বাঘাইড়, রুই-কাতলা, মৃগেল, ব্রিগেড, চিতল, সিলভার কার্পসহ নানা প্রজাতির মাছ উঠে এ মেলায়। যা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
জানা গেছে, প্রায় চারশ বছর আগের ঘটনা। মেলাস্থলে ছিল একটি বিশাল বটবৃক্ষ। সেখানে একদিন হঠাৎ এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব ঘটে। পরে সেখানে আশ্রম তৈরি করেন সন্ন্যাসীরা। এক পর্যায়ে স্থানটি পূণ্যস্থানে পরিণত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে।
স্থানীয়রা জানান, মেলা মানেই আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠা। নতুন জামাই-বউ ও স্বজনদের নিমন্ত্রণ জানানো। যদিও নিমন্ত্রণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন-পুরোনো বিবেচনা করা হয় না। কারণ, মেলা বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্য ধারণ করে সবাই মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উৎসবে।
প্রতিবছর মাঘের শেষ বুধবার এ স্থানে সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। সমাগত হন দূর-দূরান্তের ভক্তরা। কালের আবর্তে স্থানটিতে লোকজনের উপস্থিতি বাড়তেই থাকে। এভাবে গোড়াপত্তন ঘটে পোড়াদহ মেলার। ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে সব ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে পরিণত হয় এ মেলা। মেলাটি একদিনের। তবে উৎসবের আমেজ থাকে সপ্তাহব্যাপী। নতুন জামাই-বউ ও স্বজনরা মিলে এ উৎসব করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, সকালে মাছের আড়তগুলোতে ব্যাপক ভিড় লেগে থাকে। খুচরা বিক্রেতারা এসব মাছ কিনে নিজ নিজ দোকানে নিয়ে যান এবং দিনভর চলে জমজমাট বেচাকেনা। বিশাল আকৃতির বাঘাইড়, রুই-কাতলা, মৃগেল, ব্রিগেড, চিতল, সিলভার কার্পসহ নানা প্রজাতির মাছ উঠে এ মেলায়। যা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
মাছের পাশাপাশি পোড়াদহ মেলার আরেক আকর্ষণ বাহারি মিষ্টান্ন সামগ্রী। মাছ আকৃতির মিষ্টি, রসগোল্লা, সন্দেশ, জিলাপি, নিমকি, তিলের নাড়ু, খই, শুকনা মিষ্টি পাওয়া যায়। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের মিষ্টি পোড়াদহ মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
রকমারি জাতের মাছ ও বাহারি মিষ্টান্ন সামগ্রীর পাশাপাশি পোড়াদহ মেলায় বাহারি ডিজাইনের কসমেটিকস, খেলনা, চুড়ি, কানের দুল, মালা, কাজল, মেকআপ বক্স, ব্যাট, বল ভিডিও গেমসসহ নানা ধরনের প্রসাধনী ও খেলনা সামগ্রী পাওয়া যায়। এ ছাড়া এ মেলায় পাওয়া যায় কাঠের, স্টিল ও লোহার বিভিন্ন আসবাবপত্র। মেলায় বাঁশের নানা পণ্যের দেখা মেলে। যা গ্রামীণ ঐতিহ্য বহন করে।
খবরওয়ালা/ আরডি