খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বগুড়ার শেরপুরে কাটাখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে পড়ায় শেরপুর ও ধুনট উপজেলার অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পানির চাপে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চককল্যাণী এলাকায় বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। এ বাঁধটিই ছিল এসব এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ।
বাঁধ ধসে যাওয়ার ফলে সড়কের পাশের গাছপালা ও দোকানঘর পানিতে ভেসে গেছে। আজ শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙা বাঁধের দুই পাশে ভিড় করছেন শত শত এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের সময় অপরিকল্পিতভাবে প্লাস্টিকের পাইপ বসানো হয়েছিল। সেই পাইপ দিয়ে দক্ষিণ পাশে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধের ভেতরে চাপ সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা ধসে পড়ে।
চককল্যাণী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেমসহ অন্তত ১০ জন কৃষক বলেন, ‘বর্ষার মধ্যে বাঁধ সংস্কার ছিল একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত। শুষ্ক মৌসুমে কাজটি করা হলে এই বিপর্যয় ঘটত না। এতে সরকারের অর্থও অপচয় হতো না।’
বাঁধ ধসে সুঘাট ইউনিয়নের চকধলী, চককল্যাণী, কল্যাণী, জয়নগর, জয়লাজুয়ান, বেলগাছি, জোড়গাছা ও আউলাকান্দি এবং ধুনট উপজেলার পেঁচিবাড়ি, জালশুকা, বিশ্বহরিগাছা ও ভ্রমণগাথি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে হাটে ফসল নিয়ে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন আহমেদ বলেন, ‘গত ১৭ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ফসলি জমির জলাবদ্ধতা দূর করতে বাঁধের মধ্যে যে প্লাস্টিক পাইপ বসানো হয়, সেটিই মূলত ধসের কারণ।’
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল জব্বার বলেন, ‘বাঁধ সংস্কারে কোনো অনিয়ম হয়নি। কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দুই কিস্তিতে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।’
সুঘাট ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরনবী মন্ডল বলেন, ‘যদি মার্চে কাজ শুরু হতো, তাহলে বর্ষায় বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটত না। প্রকল্পটি সময়মতো ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন না হওয়াতেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।’
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক খান বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাঁধ ধসের ফলে এলাকার মানুষ একদিকে যেমন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে চাষাবাদ ও দৈনন্দিন জীবনেও পড়েছেন চরম বিপর্যয়ের মুখে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
খবরওয়ালা/শরিফ