খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী এলাকায় শনিবার রাতের মধ্যরাতে এক ট্রাক মালিককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন সাইফুল ইসলাম (৪০), যিনি ওই এলাকার জামাল উদ্দিন জামুর ছেলে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার পকেটের নগদ অর্থ ও বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম সাতটি ট্রাকের মালিক ছিলেন এবং ব্যবসায়িকভাবে সুপরিচিত। তিনি তার স্বভাবের জন্য এলাকার মানুষদের মধ্যে সম্মানিত ছিলেন এবং সাধারণত কাজ শেষ করে রাতের দিকে বাড়ি ফিরতেন। শনিবারও তিনি রাতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু ভোর হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়ে। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি।
রবিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির উত্তর পাশে একটি ঘাসের জমিতে সাইফুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। দ্রুত খবর পেয়ে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) আবু মুসা সরকার ও এসআই মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কালের কণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তিনি জানান, পুলিশ হত্যার পেছনের কারণ যেমন ব্যবসায়িক বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো সামাজিক কারণ, তা খতিয়ে দেখছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আনিছুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কোনো কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখছে। পরিবারকে থানায় এজাহার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সাইফুল ইসলামের পরিবারের অবস্থা এবং হত্যাকাণ্ডের বিবরণ নিম্নরূপ সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | সাইফুল ইসলাম |
| বয়স | ৪০ বছর |
| পিতার নাম | জামাল উদ্দিন জামু |
| ঠিকানা | সোন্দাবাড়ী, গাবতলী, বগুড়া |
| পেশা | ট্রাক মালিক (৭টি ট্রাকের মালিক) |
| নিহতের অবস্থা | বাড়ির উত্তর পাশে ঘাসের জমিতে রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায় |
| হত্যা সময় | শনিবার রাত (বিশিষ্ট সময় অনির্ধারিত) |
| নিহতের মালিকানাধীন সম্পদ | সাতটি ট্রাক, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন |
| পুলিশ ব্যবস্থা | মরদেহ উদ্ধার, সুরতহাল, ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠানো, অভিযান চলছে |
নিহতের মেয়ে সাদিয়া আক্তার বলেন, তার বাবা প্রায়ই রাতে দেরিতে বাড়ি ফিরতেন, কিন্তু ওই রাতে ফোনেও কোনো যোগাযোগ হয়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।