খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর বনানীর ১১ নম্বর রোডে অবস্থিত একটি নয় তলা ভবনের সিসা বারে সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানটি স্থানীয় বনানী থানা পুলিশ ও ডিএমপি’র সমন্বিত টিম দ্বারা পরিচালিত হয়।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, “আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। তবে সেখানে কোনো সিসা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও জানান, বনানী এলাকায় এখনও অননুমোদিত সিসা সেবনের কিছু স্থান সচল রয়েছে, যা সরকারের অনুমোদনবিহীন।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অননুমোদিত সিসা বার ও লাউঞ্জ খোলা রয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত সিসা পরিবেশন হলেও কোনো সরকারি লাইসেন্স নেই। এসবের কারণে পুলিশ তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে এবং নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে, গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট গুলশান-বনানীর অনুমোদনবিহীন মাদক সিসা ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের তা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। হাইকোর্টের বেঞ্চটি গঠন করেছিলেন বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান ও অভিযান সংক্রান্ত তথ্য নিম্নরূপ টেবিলে দেওয়া হলোঃ
| তারিখ | এলাকা | ভবনের তলা | অভিযানকারীর মন্তব্য | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| ২৩ মার্চ ২০২৬ | বনানী, ১১ নম্বর রোড | ৯ তলা | অভিযান হয়েছে, কোনো সিসা পাওয়া যায়নি | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, অভিযান চলমান |
| ৩ মার্চ ২০২৬ | গুলশান-বনানী | বিভিন্ন লাউঞ্জ | হাইকোর্ট নির্দেশ বাস্তবায়ন | অননুমোদিত সিসা লাউঞ্জ বন্ধ নির্দেশিত |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনুমোদনবিহীন সিসা সেবন বন্ধ করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জনসাধারণকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে, যাতে তারা অননুমোদিত স্থানে সিসা সেবনের ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারে।
অভিযান চলাকালীন এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বনানী থানার ওসি মুহাম্মদ খালিদ মনসুর আশ্বস্ত করেছেন যে, অননুমোদিত সিসা বারগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং নগরীর মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বিনোদন উপভোগ করতে পারবেন।
সংবাদ বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, নগরীতে অনুমোদনবিহীন সিসা সেবন চিহ্নিত করা হলেও পুলিশ সক্রিয়তার মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আইন প্রয়োগ ও হাইকোর্টের নির্দেশনার সমন্বয়ই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনার মূল উপায়।