খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে সেগুন কাঠ পাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বন কর্মকর্তাদের হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে এবার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এই মামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাতছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
জানা যায়, গত শনিবার সাংবাদিক মুজাহিদ মসি ও ত্রিপুরারী দেবনাথ সাতছড়ি উদ্যানে সেগুন কাঠ পাচারের আলামতের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বন কর্মকর্তা মামুনুর রশিদসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা তখন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের তদন্তে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্তের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কিন্তু এর মধ্যেই, গাছ চুরি আড়াল করতে গত বুধবার রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালামের নির্দেশে সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিক মুজাহিদ মসি জানান, তিনি গাছ পাচারের বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতা শাহ ফখরুজ্জামান বলেন, মুজাহিদ মসি সাংবাদিকতার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করেন। এমন একজন সাংবাদিককে হয়রানি করার জন্য বিনা তদন্তে মামলা দায়ের করায় পুলিশ ও বন বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা কমবে।
মামলার বাদী রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি মামলা দায়ের করেছেন। তার মতে, সীমিত লোকবল দিয়ে বিশাল বন পাহারা দেওয়া কঠিন, তাই কিছু গাছ চুরি হতে পারে। তবে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রেঞ্জ কর্মকর্তা তার সঙ্গে আলোচনা না করেই মামলাটি দায়ের করেছেন।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আলম জানান, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং একজন এসআই তদন্ত করছেন। তবে সাংবাদিক হামলা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মামুনুর রশিদ কিভাবে মামলা দায়ের করলেন, এ প্রশ্ন করা হলে ওসি ফোন কেটে দেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন