খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চার দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) কর্তৃক চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রতিবাদে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৮০৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গণছুটি ঘোষণা করে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। এর ফলে জেলার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এই গণছুটি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো: পল্লী বিদ্যুতে বৈষম্য দূর করা, বিআরইবি-এর শোষণ ও নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ বন্ধ করা, চাকরি নিয়মিতকরণ এবং বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল ও মামলা প্রত্যাহার করা।
এই আন্দোলনের জেরে নেত্রকোণার এজিএম (প্রশাসন) ও এইচআর মো. রাশেদুল আলম খন্দকারকে দুদিন আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার আরও তিনজনকে—সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর মো. ওমর ফারুক, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু হাসান এবং বিলিং সহকারী জ্যাকুলিন বাশারকে—সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ৮০৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে চলে যান।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্র অনুযায়ী, জেলার ২০টি সাবস্টেশন ও ২৬টি অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে সাড়ে ৬ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা গ্রহণ করেন। এই গণছুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং গরমের মধ্যে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে ৩১ আগস্ট থেকে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। এ পর্যন্ত মোট ৩২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে বোর্ড।
খবরওয়ালা/টিএসএন