বরিশাল জেলার পিরোজপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ডুমুরিতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোক ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মারিয়া আক্তার (১৮)। তিনি বানেশ্বরপুর এলাকার আবুল কালামের কন্যা এবং আফতাব উদ্দিন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত হন তার মা হাওয়া বেগম (৪৫) এবং অটোরিকশা চালক রাসেল (৩৫), যিনি একই এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বরিশালগামী একটি লোকাল বাস ডুমুরিতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মারিয়া আক্তার প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠান।
চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারিয়া আক্তার মৃত্যুবরণ করেন। আহত হাওয়া বেগম ও রাসেলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাওয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, একই ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং দুইজনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত হলেও কার্যকর কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচল এবং সড়কের সংকীর্ণতা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে তারা জানান।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় |
তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান |
ডুমুরিতলা, পিরোজপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক |
| সময় |
বৃহস্পতিবার, দুপুর প্রায় ১২টা |
| নিহত |
মারিয়া আক্তার (১৮), শিক্ষার্থী |
| আহত |
হাওয়া বেগম (৪৫), রাসেল (৩৫) |
| যানবাহন |
বাস ও অটোরিকশা |
| বর্তমান অবস্থা |
বাস আটক, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান |
এ দুর্ঘটনা স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে মাতম। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়কের দাবি আরও জোরালো হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।