খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বহুল প্রতিক্ষিত বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে আছে। প্রকল্পের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির নবনিযুক্ত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আমিনবাজারে অবস্থিত ডিএনসিসির স্থায়ী বর্জ্য ল্যান্ডফিল পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং রাজধানীর আবর্জনার স্তূপ দূর করতে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, “শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত রূপ দিতে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনভিত্তিক এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বর্জ্য পোড়ানোর তাপমাত্রা ও পরিবেশগত কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ থাকায় চূড়ান্ত ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। ফলে মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পুরোদমে শুরু করা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। শীঘ্রই পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা করে কারিগরি জটিলতা নিরসন এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের জট খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, গৃহস্থালির বর্জ্য জমতে জমতে সেখানে বিশালাকার পাহাড় তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই ল্যান্ডফিলের উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট ছাড়িয়ে গেছে, যা একটি সাত তলা ভবনের সমান। অথচ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ম অনুযায়ী এর নিরাপদ উচ্চতা হওয়া উচিত ছিল ৫০-৬০ ফুট।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে ৩০ একর জমি উন্নয়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের অভাবে কাজ এগোচ্ছে না। এর ফলে প্রতিদিনের নতুন বর্জ্য রাখার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে এবং বর্জ্যের স্তূপ উপচে আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে।
এক নজরে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ও বিদ্যুৎ প্রকল্প:
| বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| ল্যান্ডফিলের মোট আয়তন | ১০২ একর (৫২ + ৫০ একর) |
| বর্তমান বর্জ্যের উচ্চতা | ৮০ ফুটের বেশি (প্রায় ৭ তলা সমান) |
| প্রকল্পের মোট ব্যয় | ১,২৭২ কোটি টাকা |
| লক্ষ্যমাত্রা (উৎপাদন ক্ষমতা) | ঘণ্টায় ৪২.৫ মেগাওয়াট |
| প্রয়োজনীয় বর্জ্য সরবরাহ | প্রতিদিন ৩,০০০ মেট্রিক টন |
| টারবাইন সংখ্যা | ৪টি |
ল্যান্ডফিলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া এবং পচা তরল (লিচেট) আশপাশের জলাশয় ও কৃষি জমিতে মিশে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। বর্জ্য পোড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, সিটি কর্পোরেশন থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জ্য পোড়ানো হয় না। মূলত বর্জ্যের স্তূপে পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া মিথেন গ্যাস থেকে প্রাকৃতিকভাবেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দিনের বেলা কর্মীরা পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও রাতে তা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।
এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে গত রোববার ল্যান্ডফিল সংলগ্ন কুন্দা গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানাতে এসে ল্যান্ডফিলের কার্যালয় ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে তারা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত একটি টারবাইন চালুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে বর্তমান অচলাবস্থা কাটলে এবং কাজ দ্রুত শুরু হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ৪টি টারবাইনের মাধ্যমে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।