কুমারখালী (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ঘোড়াই ঘাট এলাকায় গড়াই নদীর ওপর এখনো কোনো পাকা সেতু নেই। নদীর দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০০ মিটার ধূধূ চর, অপরপাশে নদীর মধ্যে জমে থাকা পানির ওপর সরু বাঁশের সাঁকো। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করছে পায়ে হেঁটে, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল বা ভ্যানে করে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ঘোড়াই ঘাট এলাকায় হাজারো মানুষ সেতুর দাবিতে মানববন্ধন করেন। শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
কয়া গট্টিয়ার ৮০ বছর বয়সি ওয়াজেদ আলী বলেন,“এই বয়সে আর পারিনে। সেতু হলি গাড়িতে চলতি পারতাম। বাঁইচে থাকতি পাহা সেতু দেইখে যাতি চাই। তাই এনে আইসি সগলের সাথে।”
নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন বলেন,“অসুস্থ, শিশু, বৃদ্ধ মানুষ, গর্ভবতী নারীরা চলাচলে খুব কষ্ট পায়। আবার আমরা ছাত্ররাও ঠিকমতো স্কুলে পৌঁছাতে পারি না।”
কয়া মাহতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, “পাঁচটি ইউনিয়নের লাখো মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করে। ছয় মাস পানি, ছয় মাস চর—ভোগান্তির শেষ নেই। আবরার ফাহাদ ও শহীদ ইয়ামিনের নামে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা উচিত।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য কে এম আর শাহিন বলেন,“অপ্রয়োজনীয় জায়গায় সেতু হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোড়াই ঘাটে হয়নি। দ্রুত এখানে সেতু দরকার।”
জামায়াত নেতা আফজাল হোসাইন বলেন,“ঘাটে উঠার ও নৌকা থামানোর ব্যবস্থা নেই। প্রতিবছর দুর্ঘটনা ঘটে। তাই কয়েক হাজার মানুষ দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে।”
কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন বলেন,“২৫ বছর ধরে আমরা সেতুর জন্য চেষ্টা করছি। লিখিত আবেদন, গণপিটিশন, সংবাদ—সবই করেছি। তবু সেতু হয়নি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন,“জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।”
খবরওয়ালা/এমবি