খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে কার্তিক ১৪৩২ | ৫ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কানাডা সরকার বিদেশিদের ভিসা গণহারে বাতিলের ক্ষমতা অর্জনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আসা ভিসা আবেদনের মধ্যে জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে চলেছে।
গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কানাডার সম্প্রচার মাধ্যম গণমাধ্যমের হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, দেশটির অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) এবং কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) কর্মকর্তারা মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছেন। এই দলের লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ভিসার জাল আবেদনগুলো শনাক্ত করে বাতিল করা এবং সেই উদ্দেশ্যে তাঁদের আইনি ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা।
সরকারি অভ্যন্তরীণ নথিতে ভারত ও বাংলাদেশকে ‘নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জিং দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এই অতিরিক্ত ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
গণহারে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই তালিকায় ‘নির্দিষ্ট দেশের ভিসাধারীদের’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যদিও প্রকাশ্যে কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী লেনা দিয়াব এই ক্ষমতা প্রস্তাবের কারণ হিসেবে কেবলমাত্র মহামারি বা যুদ্ধের মতো বিশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ করেননি।
আইন নিয়ে উদ্বেগ
এই ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ‘বিল সি–১২’ নামে একটি প্রস্তাব কানাডার পার্লামেন্টে তোলা হয়েছে, যা সরকার দ্রুত পাস করাতে চায়।
সুশীল সমাজের ৩০টিরও বেশি সংগঠন এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মাইগ্র্যান্ট রাইটস নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এ ধরনের ক্ষমতা সরকারকে ‘গণবহিষ্কারের অস্ত্র’ তৈরি করার সুযোগ করে দেবে।
অভিবাসন আইনজীবীরাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, সরকার প্রকৃতপক্ষে আবেদন জট কমাতেই এই ক্ষমতা চাইছে কি না।
তবে আইআরসিসি গত মাসে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, এই প্রস্তাব ‘নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা পরিস্থিতিকে’ লক্ষ্য করে আনা হয়নি।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’
ইমিগ্রেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমাতে এবং ভুয়া পর্যটক ও অবৈধ পারাপার রোধে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিয়েছে।
বিভাগটির দাবি, ‘অপব্যবহারের সর্বোচ্চ হার থাকা দেশগুলো’ থেকে অস্থায়ী রেসিডেন্স ভিসা (টিআরভি) আবেদনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর ফলে গত বছরের জুন থেকে অবৈধভাবে মার্কিন সীমান্ত অতিক্রম করে কানাডায় প্রবেশের হার ৯৭ শতাংশ কমে গেছে।
এছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জালিয়াতির কারণে ভিসা বাতিলের হার ২৫ শতাংশ বেড়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তবে অভ্যন্তরীণ নথিতে কেন বিশেষভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—গণমাধ্যমের এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি কানাডার কর্তৃপক্ষ।
খবরওয়ালা/টিএসএন