খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অতীতের কিছু ভুল এবং দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে উপদেষ্টা জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, কেবল একটি পাসপোর্ট ধারণ করলেই কেউ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন না।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বহু বছর আগে যখন হাতে লেখা পাসপোর্টের প্রচলন ছিল, তখন যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট জোগাড় করতে সক্ষম হন। বর্তমানে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত এই রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের ওপর চাপ রয়েছে। তিনি জানান, বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়টি নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। অন্যান্য জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে সরকার তাঁদের পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, এটি তাঁদের নাগরিকত্বের সনদ নয়।
নিচে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| প্রসঙ্গের বিবরণ | সরকারি অবস্থান ও বাস্তবতা |
| পাসপোর্ট প্রাপ্তির কারণ | অতীতে হাতে লেখা পাসপোর্ট ও দুর্নীতির সুযোগে সংগ্রহ। |
| সৌদি আরবের প্রেক্ষাপট | ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্ট নবায়নে সৌদি সরকারের চাপ। |
| নাগরিকত্বের মর্যাদা | পাসপোর্ট থাকা মানেই বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া নয়। |
| রোহিঙ্গাদের প্রকৃত পরিচয় | তাঁরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আদি অধিবাসী। |
| প্রত্যাবাসন লক্ষ্য | বিশ্বস্বীকৃত অধিকার অনুযায়ী তাঁদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। |
তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার পূর্বপুরুষরা শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে বসবাস করে আসছেন। সমগ্র বিশ্ব স্বীকার করে যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। তাই কোনো কারিগরি বা দাপ্তরিক জটিলতা তাঁদের প্রত্যাবাসনের পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, যদি মিয়ানমারে ফেরার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়, তবে পাসপোর্ট সংক্রান্ত ক্ষুদ্র কারিগরি সমস্যাগুলো বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
এক মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁসের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টিকে জল্পনা-কল্পনা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসবেন বা কী হবে, তা নিয়ে আগাম মন্তব্যের প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁদের সঙ্গেই যথাযথ কূটনৈতিক পন্থায় আলোচনা হবে।”
এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চীন সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ সর্বদা তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কোনো বিশেষ দেশের ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণে না জড়িয়ে সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষা করাই হবে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। উপদেষ্টার এই বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতি অনুসরণ করছে।