খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫
আজ ১৯ আগস্ট। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ জহির রায়হানের আজ জন্মদিন।
জহির রায়হান তাঁর যাত্রা শুরু করেছিলেন সাংবাদিকতা দিয়ে। পত্রিকার পাতায় কলম চালিয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর দেশপ্রেমকে ধারণ করেছিলেন হৃদয়ে। বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে অবলম্বন করে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘হাজার বছর ধরে’, ‘সময়ের প্রয়োজনে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘স্টপ জেনোসাইড’-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টি। তথ্যচিত্র নির্মাণের অগ্রদূত হিসেবেও তিনি পথ দেখিয়েছেন।
১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনীর মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশভাগের পর পরিবারসহ কলকাতা থেকে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করে সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫০ সালে যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। এরপর খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমাসহ একাধিক পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৫৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু ১৯৫৭ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে। ১৯৬১ সালে ‘কখনো আসেনি’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৬৪ সালে নির্মাণ করেন পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম। পরের বছর মুক্তি দেন প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা। তাঁর চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেয়া ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে চিত্রিত করে যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে কলকাতায় অবস্থান করে তিনি স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। অর্থনৈতিক সংকটে থেকেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সব আয় মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করেছিলেন। তাঁর কাজ দেখে সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা, ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
দেশ স্বাধীন হবার পর নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে মীরপুরে গিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। ধারণা করা হয়, আলবদর বাহিনী ও বিহারিদের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দু’বার বিবাহ করেছিলেন—১৯৬১ সালে সুমিতা দেবীকে এবং ১৯৬৬ সালে সুচন্দাকে। দুই স্ত্রীর সংসারেই তিনি রেখে গেছেন সন্তান ও উত্তরাধিকার। তাঁর ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারের কন্যা শমী কায়সার আজও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ।
বাংলা চলচ্চিত্র ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে জহির রায়হান অমর হয়েছেন চিরকাল। তাঁর সৃষ্টিকর্ম ও আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির জন্য এক অমূল্য সম্পদ।
খবরওয়ালা/এমএজেড