খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস ১৫ মে এক বৈঠকে বলেন, টেকসই সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জেন্ডার সমতা ও সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সহযোগিতা করবে।
বৈঠকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জন্য ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। এই অর্থায়নের আওতায় বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের কৌশল, ৪ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১১৬টি ব্যবসার টার্নওভার উন্নয়ন ও ১১ হাজার তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জাতিসংঘের সহায়তায় ৪ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা সেবা পেয়েছে এবং ৫৬ লাখ কিশোরীকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে রক্ষায় টিকা দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ গ্রামীণ এলাকায় ৬৬% গ্রাম্য আদালত কার্যকর করতে সহায়তা করেছে, এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও গার্হস্থ্য সহিংসতা আইন সংশোধনে কাজ করছে। বৈঠকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনএসডিসিএফ (২০২২-২০২৬) এক বছরের সম্প্রসারণ অনুমোদন করা হয়।
এ সময় জাতিসংঘের চলমান অংশীদারত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের। পাশাপাশি সম্প্রসারিত ইউএনএসডিসিএফ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহরিয়ার কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের মতো জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমর্থন অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ‘তিন শূন্য নীতির’ লক্ষ্য পূরণে যুবকদের কর্মসংস্থান, সামাজিক উদ্যোগ এবং প্রভাবভিত্তিক অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় শাসনব্যবস্থা এবং আসন্ন সংস্কার ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কার্যকর সহায়তা জরুরি।
এদিন সভা শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপে সম্মতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউএনএসডিসিএফের চূড়ান্ত বছর মূল্যায়নের সূচনা এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণে গতি আনার প্রতিশ্রুতি।
জেএসসির পরবর্তী সভা চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়।